হোম > সারা দেশ > ঢাকা

নারায়ণগঞ্জ-৫-এ ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস

উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে নির্বাচনি প্রচার

উপজেলা প্রতিনিধি, বন্দর (নারায়ণগঞ্জ)

ছবি: আমার দেশ

প্রাচ্যের ডান্ডিখ্যাত নারায়ণগঞ্জ জেলার গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর ও বন্দর) নিয়ে গঠিত। এ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনি মাঠে তুচ্ছ ঘটনা ছাড়া প্রার্থীরা উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচার করছেন । প্রার্থীরা প্রতিদিন তাদের নেতাকর্মীদের নিয়ে ভোটাদের দ্বারে দ্বারে ভোট চাইছেন নিজেদের প্রতীকে। ভোট পাওয়ার আশায় প্রার্থীরা দিচ্ছেন ভোটারদের নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি।

তবে এই নির্বাচনে রাজনৈতিক সমীকরণ, ভোটের মাঠের বাস্তবতা, প্রচার-প্রচারণা, স্থানীয় প্রভাব ও বিভিন্ন সমীকরণে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস রয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ভোটাররা।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেন (ফুটবল), ১১দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের এ বি এম সিরাজুল মামুন (দেওয়াল ঘড়ি), গণসংহতি আন্দোলনের তারিকুল ইসলাম সুজন (মাথাল), ইসলামী আন্দোলনের মুফতি মাছুম বিল্লাহ (হাতপাখা)সহ ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তবে আসনটিতে মুখোমুখি অবস্থানে আছেন তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আবুল কালাম, সাবেক উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান স্বতস্ত্র প্রার্থী ফুটবল প্রতীক নিয়ে মাকসুদ হোসেন ও দেওয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে ১১দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের এ বি এম সিরাজুল মামুন।

ভোটের মাঠের পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিবিদ, পর্যবেক্ষক ও সাধারণ ভোটাররা জানান, বর্তমানে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রার্থীরা প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। পুরুষদের পাশাপাশি মহিলা সমর্থকেরাও চালাচ্ছেন তাদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা। আসনটিতে মুখোমুখি অবস্থানে আছেন ধানের শীষ, ফুটবল ও দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী। তাদের গণসংযোগ ও প্রচারণায় কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতি ও ভোটারদের সাড়া ইঙ্গিতে বোঝা যাচ্ছে ভোটের দিন তাদের মধ্যেই হবে মূল লড়াই।

নির্বাচন নিয়ে চায়ের দোকানগুলোতে রাত-দিন চলচ্ছে ভোট নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা। প্রশাসনের কঠোর অবস্থানে এই আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনি উৎসব।

এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে বিএনপি প্রার্থী আবুল কালাম পেশায় একজন আইনজীবী। তিনি মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ছিলেন। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, পারিবারিক ঐতিহ্য এবং দলের সাংগঠনিক শক্তির কারণে এ আসনে অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে এই নির্বাচনে বিবেচিত।

প্রতিটি ওয়ার্ডে তার বিপুলসংখ্যক কর্মী ও সমর্থক রয়েছেন। এছাড়া তার ছেলে আবু কাউসার আশা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিল। তবে আশার কয়েকজন সমর্থকদের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি ভোটের মাঠে বিতর্কিত রয়েছেন।

অন্যদিকে এই আসনে একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সহসভাপতি ছিলেন। ২০২৪ সালে তিনি ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে বন্দর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে এ আসনের প্রভাবশালী সাবেক এমপি শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

তার আগে মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনি মাঠে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি।

এদিকে, ইসলামি আদর্শভিত্তিক নেতা এ বি এম সিরাজুল মামুন স্থানীয়ভাবে ‘মোল্লা মামুন স্যার’ নামে পরিচিত। পেশায় তিনি একজন ইংরেজি শিক্ষক। রাজনীতিতে তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১দলীয় জোটের সমর্থনে দেওয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে বেশ প্রচার করছেন তিনি। এর আগে ২০২২ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে অংশ নিয়ে ১০ হাজারের কিছু বেশি ভোট পান তিনি।

মদনপুর এলাকার ভোটার সোহেল রানা বলেন, ‘শেখ হাসিনার আমলে জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারি নাই। আশা করছি সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এই বছর ভোট কেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেব।’

নবীগঞ্জ এলাকার ভোটার মাসুম হোসাইন বলেন, ‘যদি প্রশাসন সঠিকভাবে নিরাপত্তার আশ্বাস দেয়, তাহলে পরিবার নিয়ে ভোট কেন্দ্রে যাব। এখন পর্যন্ত উৎসবমূখর পরিবেশ আছে। এরকম পরিবেশ থাকলে ভোট দেব।’

স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেন বলেন, ‘আমি ও আমার পরিবার সব সময় মানুষের পাশে থেকে সহযোগিতা করেছি। তার পাশাপাশি অনেক স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ নির্মাণে নিজস্ব অর্থ দিয়েছি। তাই ভোটাররা আমাকে গ্রহণ করে নিচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘অনেক এলাকায় আমার নির্বাচনি ব্যানার ছিঁড়ে ফেলছে। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বরাবর অভিযোগ দিয়েছি। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে শতভাগ জয়ের আশা করেন তিনি।’

বিএনপির প্রার্থী আবুল কালাম বলেন, ‘নির্বাচন উৎসবমুখর হচ্ছে। এই আসনে তিনবারের এমপি ছিলাম, তাই ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। আমার নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রচার করছেন। ভোটাদের মধ্যেও নির্বাচনি উৎসব দেখছি। দীর্ঘদিন পর ভোটারা ভোট না দিতে পেরে তারা হতাশ ছিল।

এই বছর উৎসাহ-উদ্দীপনায় ভোটাররা ভোট দেবেন তাদের পছন্দের প্রার্থীকে। কোনো প্রার্থীর প্রচারে কোনো রকম বাধা দেওয়া হচ্ছে না। এসব অভিযোগ মিথ্যা। এ বছর বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে আসনটি দলকে উপহার দেব বলে শতভাগ বিশ্বাস করি।’

সদলবলে বিএনপি প্রার্থীর আ.লীগ নেতার কবর জিয়ারত

গোপালগঞ্জে বাসের ধাক্কায় প্রাইভেট কারচালক নিহত

নড়িয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ৯৫ ককটেল উদ্ধার, আটক ৩

মানিকগঞ্জে ভোট প্রার্থনায় হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্যরা

ধানের শীষে ভোট না দিলে ‘রেহাই নেই’

তারেক রহমানের উপহারপ্রাপ্ত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী গফুরের বাড়িতে হামলা ও লুটপাট

ছাত্রদলের সাবেক নেতার গাড়িতে গুলিবর্ষণ, অল্পের জন্য রক্ষা

রাতের আঁধারে ভোট কেন্দ্রের সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ে গেল চোর

রাতের আঁধারে গোয়ালঘর ফাঁকা করল চোরচক্র, সর্বস্বান্ত কৃষক

কাপাসিয়ায় ভাতিজার শাবলের আঘাতে কৃষকদল নেতা নিহত