শরীয়তপুরে কয়েক দফা ঝটিকা মিছিলের ঘটনার পর এবার আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পোস্টারিং কার্যক্রম নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পোস্টার ও ফেস্টুন টানানোর অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং বিভিন্ন মামলায় আটক নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে পোস্টার ও ফেস্টুন লাগানো হয়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে কয়েকজনকে পোস্টার লাগানোর কাজে অংশ নিতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই বিষয়টি স্থানীয়দের আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।
ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম মোল্লার উদ্যোগে পোস্টারিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মীকেও পোস্টার লাগানোর কাজে অংশ নিতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু সড়কের পাশেই নয়, আংগারিয়া পুলিশ ফাঁড়ি এবং ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের দেয়ালসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাতেও পোস্টার লাগানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে পোস্টারিং কার্যক্রমের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক এক সংসদ সদস্য। ভিডিওটির ক্যাপশনে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ফেস্টুন ক্যাম্পেইন ও প্রচারণার কথা উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি এ কাজে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ধন্যবাদও জানানো হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২০ দিনে জেলা শহরের অন্তত ছয়টি স্থানে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। এর আগে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে জেলার পাঁচটি স্থানে মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার তথ্যও সামনে আসে। এসব ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
এ বিষয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, বিষয়টি আমরা অনলাইনে দেখে খোঁজখবর নিয়েছি। যার নামে পোস্টার লাগানো হয়েছে তিনি বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন। আর যিনি পোস্টার লাগিয়েছেন বলে জানা গেছে, তিনি এই জেলার বাসিন্দা নন। তারপরও বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এএস