ঢাকার ধামরাইয়ে ইউপি সদস্যের ছেলের হাঁস চুরির ঘটনার বিচার করায় তিনজনকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার ধামরাই থানায় মামলা দায়ের করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ধামরাই সদর ইউনিয়নের হাজিপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায়। আহতরা হলেন—আল আমিন (৩০), সোহরাব (৩৫) ও কায়কোবাদ (২৮)। তারা বর্তমানে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন এবং তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ধামরাই ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মুক্তিবুর রহমান মুক্তির ছেলে পাচু মিয়া ভুক্তভোগী আকলিমা আক্তারের বাড়ি থেকে হাঁস চুরি করে বিক্রি করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা পাচু মিয়ার বিচার করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই বিচার মেনে নিতে না পেরে ইউপি সদস্য মুক্তিবুর রহমান মুক্তি ও তার সহযোগীরা হামলা চালান। আকলিমা আক্তার জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মুক্তিবুর রহমান অস্ত্র নিয়ে তার বাড়ির গেটে হামলা চালান। বিষয়টি জানালে তার ভাই আল আমিন, দেবর সোহরাব ও ছেলে কায়কোবাদ বাড়ির দিকে আসার পথে বাড়ির পাশে নির্জন রাস্তায় তাদের পথরোধ করে মুক্তিবুর রহমানের সহযোগীরা।
অভিযোগে বলা হয়, ওই সময় হামলাকারীরা তিনজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
পরে আহতদের প্রথমে ইসলামপুর সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে ইউপি সদস্য মুক্তিবুর রহমান মুক্তি (৫৫), তার ছেলে পাচু মিয়া (২২), মোয়াজ্জেম (৩৫), সালাউদ্দিন (৪০), শফিকুল (২৫), জাহানারা বেগম (২৮), আদম (২০) ও আবু বকর (২৫)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মুক্তিবুর রহমান মুক্তির সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ প্রসঙ্গে ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হুদা খান বলেন, এ ঘটনায় উভয় পক্ষ আহত হয়েছেন এবং উভয় পক্ষ থেকেই মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।