গাজীপুরের টঙ্গী মিলগেট এলাকার হামীম গ্রুপের সিসিএল-৩ পোশাক কারখানায় রোববার সকালে ফের ভয় ও আতঙ্কে (ম্যাস প্যানিক ডিজঅর্ডার) প্রায় অর্ধশতাধিক পোশাককর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের উদ্ধার করে সকালে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালসহ আশপাশের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
সিসিএল-৩ কারখানার শ্রমিকরা জানান, শনিবার সিসিএল-৩ প্লান্টের কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর লুৎফর রহমান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে ফ্লোরে পড়ে গেলে তাকে উদ্ধার টঙ্গী সরকারি হাসপাতাল নেয়া হয়। পরে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এ খবর কারখানায় ছড়িয়ে পড়লে সুইং ফ্লোরে কর্মরত অর্ধশতাধিক শ্রমিক ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে তাদের উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। এদের মধ্যে অন্তত ২০ জনকে আশুলিয়ার কামারপাড়া ইস্ট-ওয়েস্ট হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ঘটনার পর কারখানা ওই দিনের জন্য ছুটি ঘোষণা করা হয়।
রোববার (আজ) সকালে যথারীতি শ্রমিকরা কারখানায় গেলে সিসিএল-৩ প্লান্টের সুইং ফ্লোরে প্রবেশের পর একে একে ৫০-৬০ জনের মতো শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এদের মধ্যে শারমিন (২৫), আমেনা (২৯), জুলফা (১৯), জুলেখা (৪০), বিলকিস (৪৩), খাদিজা (২৫), জাকিয়া (২৪), ফারজানা (২৮), রুবিনা (২৬), রমিজা (২৬), সায়মা (২৫), নুর নাহার (৩০), রিনা (৩৫), আসমা (৩৫), বেলায়েত হোসেন (৩০), সবুজ (৪২), আরিফা (২৮), রেনুজা (২৩), আব্দুস সালামকে (৪০) টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। এদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ শারমিন, আমেনা, জুলফা, জুলেখা, জাকিয়া, ফারজানা, রুবিনা, রেনুজা, রিনা ও শিউলিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বাকিদের আশুলিয়ার কামারপাড়া ইস্ট-ওয়েস্টসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কারখানা কর্তৃপক্ষ আজকের মতো কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে। সিসিএল-২ ও সিসিএল-৪ প্লান্টের শ্রমিক আবু সায়েম, নাসিমা ও জাহানারা জানান, কারখানায় গেলে একটা আতঙ্ক ও ভয় মনে কাজ করে। মনে হয় মানুষের লাশ চোখের সামনে ভাসছে।
এ ব্যাপারে কারখানার জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, শনিবারের আতঙ্ক রেশ ধরে আজও বেশ কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদেরক উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ঘটনার পর আজ (রোববার) কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. ইশরাত জাহান এনি জানান, কারখানার শ্রমিকরা ম্যাস প্যানিক ডিজঅর্ডারের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তবে অনেক শ্রমিক শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন।
এ ব্যাপারে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মো. হারুন অর রশিদ বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে কারখানা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।