কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মতিউর রহমান মতি আওয়ামী লীগের দলীয় পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার বিকেলে কটিয়াদী মডেল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা মতিউর রহমান মতি আচমিতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় এই জনপ্রতিনিধির এমন ঘোষণাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বিবেচনা থেকে তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় পদ এবং প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভবিষ্যতে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ইউনিয়নের সকল মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চান।
মো. মতিউর রহমান মতি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, জনগণের কল্যাণ ও এলাকার উন্নয়নই একজন জনপ্রতিনিধির প্রধান দায়িত্ব। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে চাই। আমার এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং স্বেচ্ছায় গ্রহণ করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আচমিতা ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তারা আমাকে যে ভালোবাসা, সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়েছেন, তা আমি সবসময় স্মরণ রাখব। ভবিষ্যতেও ইউনিয়নের উন্নয়ন, শান্তি, সম্প্রীতি ও অগ্রগতির জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাব।”
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার পর একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের এ ধরনের সিদ্ধান্ত স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে ভবিষ্যতে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবেন কি না, সে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি।