আসন্ন সংসদ নির্বাচনে পরিচিত ফরিদপুর-৪ আসনে (সদরপুর-চরভদ্রাসন-ভাঙ্গা) এবার ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে বলে মাঠ পর্যায়ের অনেক সাধারণ ভোটার মনে করছেন।
স্বাধীনতার পর থেকে ফরিদপুর-৪ আসন (সদরপুর-চরভদ্রাসন-ভাঙ্গা) বেশির ভাগ সময় আওয়ামী লীগের দখলে ছিল । এর মধ্যে এরশাদের আমলে জাতীয় পার্টি একবার, বিএনপির আমলে ২০০১-এর উপনির্বাচনে বিএনপি একবার বিজয়ী হয়।
রাতের ভোটের কারিগর শেখ হাসিনার ভাতিজা পরচয়দানকারী চৌধুরী মজিবুর রহমান নিক্সন সর্বশেষ টানা তিনবার এমপি ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের দখলে ফাটল ধরে, হামলা-মামলার ভয়ে অনেক নেতা এলাকাছাড়া। সাবেক স্বতন্ত্র এমপির সমর্থকদের একটি বড় অংশ ভোটারদের এখন কাছে টানছেন বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল।
নানা কারণে স্থানীয় নেতৃত্ব ধরে রাখতে বেশির ভাগ নিক্সন সমর্থক বিএনপির সঙ্গে ভোটের মাঠে যোগ দিয়েছেন।
এছাড়া বিএনপির মাঠ পর্যায়ের সমর্থকেরা বলছেন, বিএনপির কোনো নেতৃত্বের কোন্দল নেই এই আসনে। বিএনপির প্রার্থী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম খান বাবুলের নেতৃত্বে বিএনপি ও অংগসংগঠনের সব নেতাকর্মী একসঙ্গে ধানের শীষের বিজয়ের লক্ষ্যে কাজ করছে।
বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী এই আসনে ইতিপূর্বে ভালো কোনো ফল না দেখাতে পারলেও এবারের নির্বাচনে তরুণদের মধ্যে জামায়াতের সমর্থন বেশি বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ জামায়তের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সেই সঙ্গে আশাবাদী মানুষ বিগত দিনের অনিয়ম, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, অবৈধ বালুর ব্যবসা, মাদক— এসবের বিরুদ্ধে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে একটা গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ভোটার বলছেন, জামায়াত ইসলামীর দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে এবার তাদের বিজয়ী করবেন।
মাঠ পর্যায়ের সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, বিএনপির প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল, জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ সরোয়ার হোসাইন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী স্থপতি মুজাহিদ বেগ এই তিনজনের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই আসনে একাধিক প্রার্থী থাকলেও মূলত এদের তিনজনের মধ্যেই ভোটের লড়াই হবে— এমনটাই মনে করছেন তারা।