আ.লীগ-বিএনপির নেতা দুই ভাইয়ের
ঢাকার ধামরাই উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নের বাসনা এলাকায় সরকারি বরাদ্দে চলমান রাস্তা সংস্কারের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা ও তার ভাই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন ৪০ দিনের কর্মসূচির আওতায় প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তার কাজ শুরু হয় ৷ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাব খাটিয়ে এক রাতে রাস্তায় জমি না দেওয়ার অজুহাতে রাস্তার সামনের জমিতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নুরুল ইসলাম।
দীর্ঘদিন পর এবারও সংস্কারকাজ শুরু হলে তার ভাই বিএনপির নেতা হওয়ায় আবারও রাস্তা নির্মাণে বাধা দেন। আশপাশের পাঁচ গ্রামের একমাত্র ভরসা এই রাস্তা।
সম্প্রতি কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় ১০ টন চাল বরাদ্দ দিয়ে রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা । কাজের অধিকাংশ সম্পন্ন হলেও শেষ পর্যায়ে এসে বাধার মুখে পড়ে প্রকল্পটি।
অভিযোগ রয়েছে, সানোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি নুরুল ইসলাম ব্যক্তিগত স্বার্থে রাস্তার কাজে বাধা দেন। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে রাস্তার সামনের জমিতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করার ফলে সরকারি প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাস্তার দুপাশের সংস্কারকাজ সম্পন্ন হলেও মাঝখানে প্রাচীর তুলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। এতে পাঁচটি গ্রামের হাজারো মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। বিশেষ করে রাস্তা না থাকায় কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের কৃষকেরা উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতেও একাধিকবার রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন বিএনপি ক্ষমতায়, তার ভাই বিএনপি নেতা, এখন কাজ শেষ পর্যাযয়ে, বাকিটুকু বাধা দিয়ে রেখেছেন।
এদিকে রাস্তা সংস্কারের কাজ বন্ধ থাকায় এক্সকাভেটর (ভেকু) ভাড়া প্রতিদিন ১৫ হাজার টাকা করে পরিশোধ করছে সরকার। এতে সরকারি অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাধা অপসারণ করে রাস্তার কাজ সম্পন্ন করা হোক।
তবে অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলামের বক্তব্যে বলেন, ‘আমার জমির ওপর দিয়ে রাস্তা দিব না৷ অন্য দিক দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করুক।’
এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, ‘রাস্তার কাজ বন্ধ থাকার বিষয়টি আপনাদের কাছ থেকে জানতে পারলাম। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এমএইচ