হোম > সারা দেশ > খুলনা

কেএমপির অতিরিক্ত কমিশনার রাশিদুলকে স্ট্যান্ড রিলিজ

‘তথ্য ফাঁসকারী পুলিশকে গাছে ঝুলায় দেব’ বক্তব্যের জের

খুলনা ব্যুরো

জনগণের দেওয়া অপরাধসংক্রান্ত তথ্য পুলিশের কেউ ফাঁস করলে তাকে প্রকাশ্যে শাস্তির আওতায় আনার কথা বলেছিলেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) রাশিদুল ইসলাম খান। গত মঙ্গলবার খুলনার লবণচরা থানার মহিরবাড়ি খালপাড়ে এক সুধী সমাবেশে দেওয়া তার এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে গত শনিবার তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স পারসোনেল ম্যানেজমেন্ট শাখার অ্যাডিশনাল ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত পরিপত্রে রোববারের মধ্যে রাশিদুল ইসলাম খানকে ঢাকায় রিপোর্ট করতে বলা হয়।

এদিকে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার এমন বক্তব্য পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন। তবে ভুক্তভোগী নগরবাসীর অনেকেই তার বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুলিশের পক্ষ থেকে আয়োজিত সুধী সমাবেশে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, খুলনায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা চরমে পৌঁছেছে। দুই বছরে খুন হয়েছে ৮৯ জন। গুলি ও কুপিয়ে জখমের ঘটনা শতাধিক। লবণচরা থানা ও মহিরবাড়ি খালপাড় শীর্ষ অপরাধপ্রবণ এলাকা। এখানে ঘরে ঘরে অস্ত্র, সন্ত্রাসী। তাদের অভিযোগ, পুলিশের মধ্যে সন্ত্রাসীদের লোক রয়েছে। পুলিশকে তথ্য দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা সন্ত্রাসীদের জানিয়ে দেয়। যে কারণে পুলিশ কয়েকটি অভিযান চালালেও সন্ত্রাসী ধরা পড়ে না।

এ সময় পুলিশ কর্মকর্তারা তথ্য দিয়ে সহযোগিতার জন্য স্থানীয়দের অনুরোধ জানালে উপস্থিত কয়েকজন বলে ওঠেন, তথ্য দিলে পুলিশই সেটা ফাঁস করে দেয়। আগে পুলিশ অফিসারদের ভালো হওয়ার পরামর্শ দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘দারোগা বা ইন্সপেক্টরকে বলার পর কোনো তথ্য যদি ফাঁস হয়, আমি মুসলমান হিসেবে কথা দিচ্ছি, আমি ইন্সপেক্টরকে ঝুলায় দেব। আপনারা পিটায় মারবেন। আপনারা গোপন তথ্য দিবেন, আল্লাহ ছাড়া কেউ জানলে আমি কথা দিচ্ছি গাছের সঙ্গে ঝুলাইয়া পিটাব।’ ২৫ সেকেন্ডের ভাইরাল হওয়া ভিডিওর এ পর্যায়ে উপস্থিত জনতাকে করতালি দিতে দেখা যায়।

অন্যদিকে এ ঘটনার পর বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এক যৌথ বিবৃতি দেন। এতে বলা হয়, পুলিশ বাহিনীর সব সদস্য ও কর্মকর্তার বক্তব্যে সর্বদা পেশাদারিত্ব, সংযম ও প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকা বাঞ্ছনীয়। জনসম্মুখে প্রদত্ত যেকোনো বক্তব্য এমন হওয়া উচিত, যা বাহিনীর মর্যাদা, শৃঙ্খলা ও জনগণের আস্থাকে আরো সুদৃঢ় করে।

অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা আশা করেন, ভাবিষ্যতে সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যরা বক্তব্য দেওয়ার সময় আরো সতর্কতা, সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন, যাতে পুলিশ বাহিনীর মর্যাদা, ঐক্য, শৃঙ্খলা ও পেশাদার ভাবমূর্তি সুদৃঢ় হয়।

কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রাশিদুল ইসলাম খানের সঙ্গে রোববার বিকালে এ প্রতিবেদক মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে জানান, চার্জ বুঝিয়ে দিয়ে তিনি ঢাকার পথে রয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ প্রচার হচ্ছে জানিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার প্রেক্ষাপটে আমি তাৎক্ষণিক কিছু কথা বলেছিলাম। এতে আমার সহকর্মীরা আঘাত পেয়েছেন। আমি সেজন্য লজ্জিত, অনুতপ্ত।

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে সরব ফেসবুক। অনেকেই পক্ষ নিয়েছেন রাশিদুল হাসানের। এদের মধ্যে আজাদুল হক আজাদ লিখেছেন, খুলনার মাদক ব্যবসা, জুয়া, সন্ত্রাসীসহ সব ধরনের অপকর্মের সঙ্গে কিছু পুলিশ সদস্য জড়িত। তিনি তাদের সতর্ক করতে যে বার্তা দিয়েছেন, তাকে শতভাগ সমর্থন করি। পুলিশ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আঁতাত করে চলবে, গোপন তথ্য ফাঁস করবে আর তাদের কিছু বলা যাবে না? হাউ ফানি! আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে তার মতো অফিসার দরকার। কমেন্টে অনেকেই তার বক্তব্য সমর্থন করেন।

এএস

সড়কে কোটি টাকার ব্লকে ধস, চলাচলে ঝুঁকি

চৌগাছায় পাহারাদারের গলাকাটা লাশ উদ্ধার

গোপন মিটিং থেকে ৮ জন আ. লীগ নেতাকর্মী আটক

হারিয়ে যাচ্ছে হাডুডু, গোল্লাছুট কানামাছি, লাটিম ও ঘুড়ি ওড়ানো

বেনাপোল বন্দরে কাস্টমসের জব্দ ৬ কোটি টাকার পণ্য উধাও

নব্য ফ্যাসিবাদকে বিদায় জানাতে আরেকটি বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকুন

পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ, আহত ১৮

মালঞ্চ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে এক জেলের মৃত্যু

বাগেরহাটের উর্বর মাটিতে কৃষি বিপ্লব সম্ভব: শেখ মনজুরুল হক রাহাদ

সাতক্ষীরায় বিএনপি অফিসের সামনে থেকে ককটেল উদ্ধার