জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজির রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করে সৎ মানুষের হাতে ভোটের আমানত তুলে দিন। ৫ আগস্টের পরে ফ্যাসিস্টরা পালিয়ে গেলেও সারা দেশে যারা লুটপাট করেছে, তাদের হাতে ক্ষমতা গেলে হিন্দু-মুসলমান কারো জান-মাল নিরাপদ থাকবে না।
শনিবার খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদ সদস্য থাকাকালীন অভিজ্ঞতা স্মরণ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, তখন ডুমুরিয়া ছিল ভয়াবহ সন্ত্রাসকবলিত। সন্ধ্যার আগে মানুষ ঘরে ঢুকে পড়ত। প্রতিদিন হত্যা, গুম, হাত-পা কাটার আতঙ্ক ছিল। নির্বাচনের আগে দুটি অঙ্গীকার করেছিলাম—সন্ত্রাস দমন এবং শতভাগ স্বচ্ছ উন্নয়ন।
তিনি দাবি করেন, এমপি থাকাকালে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করেছেন, যার পূর্ণ হিসাব ইউনিয়ন ও খাতভিত্তিকভাবে বই আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। যৌথবাহিনী গঠন করে বহু সন্ত্রাসীকে জেলে পাঠানো হয়েছে, কেউ পালিয়েছে এবং অনেকে এলাকা ছেড়েছে।
বর্তমান নির্বাচনি প্রেক্ষাপটে এ জামায়াত নেতার অভিযোগ, আবারও দুর্নীতিবাজদের ক্ষমতায় ফেরানোর ষড়যন্ত্র চলছে। এমপি বানাবে একজনকে, তিনি থাকবেন ঢাকা বা লন্ডনে। এরপর এলাকায় তার সাগরেদরা চাঁদাবাজি, মাস্তানি এবং ঘের দখল চালাবে। এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ, আদালতে ১৩ বছরের সাজা ও হাওয়া ভবন সংশ্লিষ্টতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য আবু ইউসুফ মোল্লা, ডুমুরিয়া উপজেলা আমির মাওলানা মোক্তার হোসেন, উপজেলা নায়েবে আমির গাজী সাইফুল্লাহ ও মাওলানা হাবিবুর রহমান।