নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সুন্দরবনে বিষ (কীটনাশক) প্রয়োগ করে মাছ শিকার এবং আগুনের তাপে শুঁটকি তৈরির অভিযোগে অবৈধ জেলেদের একটি আস্তানায় অভিযান চালিয়েছে বন বিভাগ। এসময় বিপুল পরিমাণ শুঁটকি, কীটনাশক, নৌকা ও মাছ আহরণ এবং শুঁটকি তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
শনিবার বিকেলে পূর্ব সুন্দরবনের সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ এর চড়াপুঁটিয়া ফরেস্ট অফিস এলাকার শ্যালা নদীর অফিস খাল এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানটি পরিচালনা করেন চড়াপুঁটিয়া ফরেস্ট অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান। বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা সেখানে অভিযান চালান।
বন কর্মকর্তারা জানান, অসাধু জেলেরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গোপনে সুন্দরবনে প্রবেশ করে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে মাছ শিকার করছিল। পরে বনের ভেতরে বিশেষভাবে তৈরি মাচায় আগুনের তাপে বিষাক্ত মাছ শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করা হচ্ছিল।
বনকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে জেলেরা গভীর বনে পালিয়ে যায়, ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনাস্থল থেকে দুই বস্তা শুঁটকি, চার বোতল কীটনাশক, দুটি ডিঙি নৌকা এবং মাছ আহরণ ও শুঁটকি তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। পরে অবৈধ শুঁটকি তৈরির আস্তানাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
বন বিভাগ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত দলে আনুমানিক ৪ থেকে ৫ জন সদস্য ছিল। তাদের শনাক্ত ও আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, বন্যপ্রাণী ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময় সুন্দরবনে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে বন বিভাগ। চলতি বছরও ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসের জন্য বনজীবী ও পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ রয়েছে।