সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, ১৯৭১ সালের তরুণ ও ২০২৪ সালের তরুণেরা একই সুতায় গাঁথা—তারা অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ দুটি আন্দোলনেই তরুণ ও নারীদের সম্পৃক্ততা ছিল সবচেয়ে বড়।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব হলো একটি ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকে নতুন করে গড়ে তোলা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা। তবে এ দায়িত্ব পালন করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের। ২০২৪ সালের আন্দোলনে প্রায় ৬৪ শতাংশ অংশগ্রহণ ছিল নারীদের। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে—আমাদের মেয়েরা বারবার দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নেমেছে। তাই নারীদের যথাযথ সম্মান দিতে হবে।
সোমবার দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষ ‘অমিত্রাক্ষর’-এ আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।
সভায় শারমীন মুরশিদ আরও বলেন, পৃথিবীর কোথাও একসাথে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট নেওয়ার নজির নেই। এটি বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন। এর জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে হলে গণভোটের পক্ষে জনমত তৈরি করতে হবে।
তিনি বাস্তবতা পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে বলেন, এখনো দেশে দুর্নীতি বিদ্যমান। নারীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এসব পরিবর্তনের জন্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিকল্প নেই। আর সেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম হাতিয়ার হলো গণভোট।
উপদেষ্টা বলেন, ভোট মানে অবাধ অংশগ্রহণ। রাষ্ট্রের জন্য একটি স্থায়ী কাঠামো প্রয়োজন, যার মাধ্যমে মানুষ চিরদিনের জন্য সুবিচার নিশ্চিত করতে পারে। গণভোট সেই স্থায়ী কাঠামো বাস্তবায়নের মূল মাধ্যম। তাই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করে ভবিষ্যতের জন্য একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, গণভোটের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই, তবে দেশ পুনর্গঠনে এটি অত্যন্ত জরুরি।
অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুজন সরকার, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন এবং জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম রাকিব।
সভা শেষে উপদেষ্টা শারমীন মুরশিদ কালেক্টরেট চত্বরে গণভোটের মক ভোটিংয়ে অংশ নেন।