আসন্ন সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নড়াইল-২ (লোহাগড়া ও নড়াইল সদরের আংশিক) আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনি মাঠ। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীদের প্রচার, সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে প্রার্থীরা তুলে ধরছেন নিজেদের ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি। এ আসনে মোট আট প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূলত বিএনপি, বিএনপির বিদ্রোহী এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
জানা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে এ আসনে অধিকাংশ সময় আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলেও বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির জন্য বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে দলীয় বিভক্তি সেই সম্ভাবনাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে জামায়াতে ইসলামী তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের একটি অংশের ‘রিজার্ভ ভোট’ ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রথমে এ আসনে জেলা সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলামকে প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি। কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের শরিক দল এনপিপির চেয়ারম্যান ও সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া এ জেড এম ফরিদুজ্জমানকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী করা হয়। এতে দলের ভেতরে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। মনিরুল ইসলামের মনোনয়ন পুনর্বহালের দাবিতে তার সমর্থকেরা অনশন, বিক্ষোভসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত থাকলে মনিরুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কলস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনি মাঠে নামেন।
পরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি তার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় নড়াইল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের একাধিক বিএনপি নেতাকেও বহিষ্কার করা হয়। তবে এসব সিদ্ধান্ত মনিরুল ইসলামের জনপ্রিয়তায় তেমন নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি বলে স্থানীয়দের অভিমত। তার নির্বাচনি সভা-সমাবেশে বিপুল জনসমাগম এবং নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ তার গ্রহণযোগ্যতারই প্রতিফলন।
মনিরুল ইসলাম বলেন, গত ১৫ বছর আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছি। সে মূল্যায়ন হিসেবেই তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আমার পাশে আছেন। বিজয়ী হলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নদীভাঙন রোধসহ সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
অন্যদিকে ধানের শীষের প্রার্থী এজেডএম ফরিদুজ্জমান দাবি করেন, বিএনপির একটি শক্তিশালী অংশ এখনো তার সঙ্গে আছে। তিনি শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন এবং বলছেন, আমি ধানের শীষের মানুষ। নড়াইলের জনগণ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। নির্বাচিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ইপিজেড স্থাপনসহ বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
বিএনপির বিভক্তির বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে রয়েছে। দলটির প্রার্থী জেলা আমির আতাউর রহমান প্রায় দেড় বছর ধরে নির্বাচনি এলাকায় কাজ করছেন। তিনি চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের সমর্থন চাইছেন।
দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী বলেন, বিজয়ী হলে তিনি কৃষি খাতে বিদ্যামান সমস্যা নিরসন, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের উন্নয়নে কাজ করবেন। তার ভাষ্য, মানুষ নিরাপদ ও সুশাসনভিত্তিক নড়াইল চায়। আর সে প্রত্যাশা পূরণে জামায়াতই যোগ্য।
সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা প্রতিশ্রুতির বাইরে বাস্তব কাজ দেখতে চান। সৎ, যোগ্য ও দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্বই তাদের প্রধান চাওয়া।
এ আসনে মোট তিন লাখ ৯০ হাজার ৯৮৭ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৯৪ হাজার ২৪৫ জন, নারী এক লাখ ৯৬ হাজার ৭৩৮ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন চারজন।