কেশবপুরে ২০ বিলে জলাবদ্ধতা
কেশবপুরের ২০ বিলে জলাবদ্ধতার কারণে পাঁচশ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চলতি বছর যশোরের কেশবপুর উপজেলায় ঘের মালিকদের অসহযোগিতার কারণে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, এ বছর কেশবপুর উপজেলায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে জলাবদ্ধতার কারণে বিল বলধালী ও বুড়লী বন্যার বিলসহ ২০টি বিলে প্রায় পাঁচশ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না । অবশ্য কৃষি অফিস জানায়, ঘেরের পানি সেচ না দেওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন বিলে ১৯৫ হেক্টর জমিতে আবাদ করা সম্ভব হবে না। এ বছর ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮৪ হাজার ৫০০ টন। যার বাজারমূল্য ৩৪ কোটি ২০ লাখ টাকা। এর মধ্যে কৃষি অফিসের হিসাবমতে ১২ হাজার ৬৭ টন ধান উৎপাদন কম হবে। এতে প্রায় এক হাজার কৃষকের মাথায় হাত উঠেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে কেশবপুরে ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও পুরো উপজেলায় আট হাজার হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ করা হয়েছে। এছাড়া কিছু কিছু এলাকায় ধানের পরিচর্যা চলছে এবং কিছু এলাকায় ১৫-২০ জন ঘের মালিক ধানের আবাদের মৌসুম শুরু হলেও তাদের ঘেরের পানি সেচ না দেওয়ায় মাঘ মাস চলে এলেও কেশবপুর সদরের মধ্যকুল, বিলবলধালী, হাবাসপোল বিল, চুয়াডাঙ্গা বিল, ঘাঘা বিল, পাথরা বিল, বুড়লী বন্যার বিল, বিল খুখশিয়া, সুফলাকাটি বিল, নারাণপুর বিল, কালীচরণপুর বিল, মনোহরপুর বিল, বিলগরালিয়া, বাগডাঙ্গার বিল ও পৌর শহরের বিল বলধালীসহ প্রায় ২০টি বিলের পানি সেচ না দেওয়ায় প্রায় পাঁচশ হেক্টর জমিতে এ বছর কৃষকরা বোরো ধানের আবাদ করতে পারবেন না বলে স্থানীয় কৃষকরা জানান।
এদিকে ভবদহের বিরূপ প্রভাবের কারণে সরকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে চলতি বছর ভবদহ অঞ্চলের কেশবপুরের মধ্যদিয়ে বয়ে যাওয়া হরিহরসহ পাঁচটি নদীর সাড়ে ৮১ কিলোমিটার নদী খনন করার লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে হরিহন নদীতে বাঁধ দেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসন ১৫ পৌষের মধ্যে নদী সংশ্লিষ্ট এলাকার বিলে বোরো আবাদের লক্ষ্যে এসব ঘের মালিকদের ঘেরের পানি সেচ দেওয়ার জন্য সম্প্রতি একাধিকবার মাইকিং করলেও ১০-১২ জন ঘের মালিক তাদের ঘেরের পানি সেচ না দেওয়ায় এসব বিলে শতশত হেক্টর জমির মালিকরা এখনো পর্যন্ত বীজতলা তৈরি করতে না পেরে হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এর মধ্যে কিছু কিছু এলাকায় কৃষকরা বীজতলা প্রস্তুত করছেন বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় কৃষি অফিসের সহযোগিতা কামনা করেছেন এলাকার কৃষকরা। গত বছর কেশবপুরে সাড়ে ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয় ১২ হাজার ৯২০ হেক্টর জমিতে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, চলতি বছর কেশবপুরে ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে আট হাজার হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ শেষ হয়েছে। বাকি জমিতে রোপণের তোড়জোড় চলছে। এছাড়া জলাবদ্ধতার কারণে ১৯৫ হেক্টর জমিতে আবাদ করা সম্ভব হবে না। এতে ধান উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা রয়েছে।