ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় এক কৃষকের ৪ বিঘা জমির লাউ ও কুমড়ো গাছ রাতের আঁধারে কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
গতকাল শনিবার রাতের কোনো একসময়ে উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের মাঠে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। এতে ওই কৃষকের ৫/৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালিয়া গ্রামের কৃষক আসাদুল ইসলাম টাকা ধার করে ৪ বিঘা জমিতে লাউ ও কুমড়োর চাষ করেছিলেন। দিনকয়েক হলো মাচায় মাচায় শত শত কচি লাউ ও কুমড়ো ধরতে শুরু করেছে। প্রতিদিন ক্ষেত থেকে লাউ তুলে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছিলেন তিনি।
রোববার সকালে প্রতিদিনের মতো ক্ষেতে লাউ তুলতে গিয়ে স্তব্ধ হয়ে যান আসাদুল। তিনি দেখেন, ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রতিটি গাছের গোড়া কেটে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। সকাল গড়িয়ে রোদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মাচার সবুজ পাতা ও ডগাগুলো শুকিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে থাকে। চোখের সামনে সযত্নে গড়া স্বপ্নের এমন নির্মম মৃত্যু দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই কৃষক।
বিষয়টি জানতে পেরে মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বোয়ালিয়া মাঠে লাউ ও কুমড়ো গাছ কেটে ফেলার বিষয়টি আমরা জেনেছি।
খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পাশে আছি। তাকে আইনি সহায়তার পাশাপাশি পরবর্তীতে সরকারি কোনো প্রণোদনা আসলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহযোগিতা করা হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। কৃষকের ফসল শত্রুতাবশত নষ্ট করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। ভুক্তভোগী কৃষকের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।