পরিবারের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন নিয়ে ইতালি গিয়েছিলেন বাগেরহাট সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দা জিন্নাত খান খোকন। তার সেই স্বপ্ন আজ দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
খোকন মৃত লুৎফর রহমান খানের ছেলে। সংসারে স্ত্রী সুমি বেগম, বড় মেয়ে জেরিন আক্তার (১৪), মেজো মেয়ে জিনিয়া খানম (৮), আড়াই বছরের ছোট মেয়ে জাকিয়া আক্তার ও ৭০ বছর বয়সি মা জরিনা বেগম রয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দেশ ছাড়েন খোকন। উন্নত জীবনের আশায় দালালের মাধ্যমে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা খরচ করে প্রথমে বুলগেরিয়ায় যান। সেখান থেকে পানিপথে অবৈধভাবে ইতালিতে প্রবেশ করেন। কিন্তু বিদেশে গিয়েও ভাগ্যের চাকা ঘোরেনি। ঋণের চাপ, অনিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এ বছরের ১৯ জুন ইতালিতে গলায় ফাঁশ নিয়ে আত্মহত্যা করেন।
মামাতো ভাই শেখ তানভির হাসান বলেন, বিদেশে যাওয়ার জন্য নিজের ভিটেমাটিও বিক্রি করেছিল খোকন। পরিবারের ভালো ভবিষ্যতের আশায় সে দেশ ছেড়েছিল। কিন্তু ঋণের চাপ ও হতাশাই শেষ পর্যন্ত তার জীবন কেড়ে নিল।
মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বৃদ্ধ মা জরিনা বেগম বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।
তিনি বলেন, ‘যাওয়ার সময় আমাকে চুমু খেয়ে বলেছিল, অনেক টাকা দেবে, আমার চিকিৎসা করাবে। কিন্তু আজ আমার ছেলে আর নেই। আমার ছেলে সংসারের সুখের জন্য বিদেশে গিয়েছিল। এখন শেষবারের মতো তার মুখটা দেখতে পারব কি না জানি না। সরকারের কাছে আমার একটাই আবেদন, আমার ছেলের লাশ যেন দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।’
স্ত্রী সুমি বেগম বলেন, ‘স্বামীকে বিদেশ পাঠাতে অনেক কষ্ট করেছি, ঋণ করেছি। এখন তার লাশ দেশে আনার টাকাও আমাদের নেই। ছোট ছোট তিনটি মেয়েকে নিয়ে কীভাবে জীবন চলবে, সেটাও জানি না।’
এ অবস্থায় স্থানীয়রা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সমাজের বিত্তবান মানুষের প্রতি মানবিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।
তাদের দাবি, দ্রুত লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হলে পরিবারটি শেষবারের মতো খোকনকে বিদায় জানানোর সুযোগ পাবে।
জেডএম