প্রতিবেশীদের মিথ্যা অভিযোগ ও মামলা দিয়ে হয়রানি করায় খুলনার ডুমুরিয়ার পাচুড়িয়া গ্রামের এক পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের তদন্তে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া না গেলেও গায়ের জোরে তারা দখলবাজিসহ নানা অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
বুধবার খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে জুলুমের প্রতিকার ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ দাবি করেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান খর্ণিয়া ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল হোসেন সরদার।
তিনি অভিযোগ করেন, পাচুড়িয়া গ্রামের সুকেশ রক্ষিতের ছেলে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য ও ইসকন সদস্য তপু রক্ষিত সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সাধারণ গ্রামবাসীর চরিত্র হনন করেছেন। তিনি তপু রক্ষিতও তার ভাই অপু রক্ষিতের জমি ভোগদখল সংক্রান্ত মিথ্যা অভিযোগের বিপরীতে প্রকৃত সত্য তুলে ধরেন।
আবুল হোসেন জানান, ১৯৭৫ সালে সুকেশ রক্ষিতের দাদু সুধির রক্ষিতের কাছ থেকে রহমত আলী সরদার ও খোরশেদ আলী সরদার ২৭ শতক জমি কেনেন। জমি ক্রয়ের দলিল থাকলেও বিক্রেতার ত্রুটির কারণে মিউটেশন না হওয়ায় এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান।
তিনি আরো বলেন, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় এলে এ পরিবারটি সাবেক ভূমিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে এলাকায় দাপুটে হয়ে ওঠে। মিথ্যা লুটপাটের মামলা দিয়ে বিরোধী মতের লোকজনকে অব্যাহত হয়রানি করেছে। স্থানীয় শাহজাহান সরদারের স্ত্রী শিউলী বেগম ও কালাম সরদারের কাছে জমি বিক্রির স্ট্যাম্পে বায়নাপত্র করে টাকা নিলেও আজ পর্যন্ত জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়নি।
তিনি আরো জানান, ইতোমধ্যে অপু রক্ষিতের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আল আমিন ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেন। যেখানে দীর্ঘ তদন্ত শেষে তাদের সব অভিযোগ ভুয়া প্রমাণিত হয়।
এছাড়া বিভিন্ন সময় স্থানীয় সেনা ক্যাম্প কমান্ডার, এসপির তদন্ত টিম, পিবিআই তদন্ত টিম, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা, জেলা হিন্দু ফ্রন্টের নেতা ও স্থানীয় প্রশাসন সরেজমিন গিয়েও তাদের অভিযোগের সত্যতা পায়নি বলে জানান আবুল হোসেন।
আবুল হোসের সরদার দাবি করেন, তিনি জিয়াউর রহমানের জাগো দল থেকে অদ্যাবধি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেনÑশহিদুল ইসলাম শহিদ, শাহজাহান সরদার, আবুল কাশেম সরদার, আব্দুল কুদ্দুস সরদার, জিয়ার বিশ্বাস, মন্টু সরদার, বলু শেখ, কামরুল ইসলাম সরদার প্রমুখ।