হোম > সারা দেশ > খুলনা

খাদ্য সংকটে হারিয়ে যাচ্ছে কালোমুখো হনুমান

টিপু সুলতান, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)

খাদ্য সংকটে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে হারিয়ে যাচ্ছে কালোমুখো হনুমান। ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ভবনগর গ্রামজুড়ে চোখে পড়ে বিরল প্রজাতির এ হনুমানের অবাধ বিচরণ। গাছে, বাড়ির ছাদে, আবার মানুষের সঙ্গেও এ কালোমুখো হনুমান বসবাস করে থাকে।

একসময় এলাকায় প্রচুর ফলদ ও বনজ গাছ থাকায় খাবারের অভাব ছিল না এসব বন্যপ্রাণীর। কিন্তু গাছপালা কমে যাওয়া, বাগান উজাড় হওয়া ও মানব কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির ফলে এখন খাবার সংকটে পড়েছে বন্যপ্রাণী। ফলে কখনো ঢুকে পড়ছে লোকালয়ে, আবার এলাকা ছেড়ে চলে গেছে অনেক হনুমান।

স্থানীয় বসির আহমেদ খাদ্য সংকটে কমে যাচ্ছে কালোমুখো হনুমান। আগের মতো এখন আর দেখা যায় না হনুমানদের।

এ বিষয়ে প্রাণ পরিবেশ প্রতিবেশ সংগঠক সুজন বিপ্লব বলেন, কালোমুখো হনুমান রক্ষায় তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ, পর্যাপ্ত খাবার সরবরাহ, শিকারি প্রাণির হাত থেকে সুরক্ষা এবং স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। সরকার ও বন বিভাগকে তাদের জন্য অভয়ারণ্য ঘোষণা এবং খাবারের বরাদ্দ বাড়াতে হবে, যাতে তারা খাদ্যের

সন্ধানে লোকালয়ে না আসে এবং মানুষের সঙ্গে সংঘাত এড়ানো যায়। যেসব অঞ্চলে কালোমুখো হনুমানের বিচরণ বেশি, সেগুলোকে অভয়ারণ্য ঘোষণা করা। তাদের বিচরণক্ষেত্র বা বনভূমি ধ্বংস করা থেকে বিরত থাকা। আইনগত সুরক্ষায় বন্যপ্রাণী আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে তুলতে বনায়ন করতে হবে।

ঝিনাইদহ জেলা ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিদিন বন বিভাগের পক্ষ থেকে বাদাম, কলা ও সবজি খেতে দেওয়া হয়, তবে তা পর্যাপ্ত নয়। হনুমানগুলো শুধু মহেশপুর উপজেলার ভবনগর গ্রামেই থাকে। জেলার অন্যকোনো উপজেলায় তাদের অবস্থান নেই। মাঝেমধ্যে খাবারের অভাবে এদিক সেদিক ছুটে যায়। তবে এ জেলায় সামাজিক বনায়ন ছাড়া কোনো বন নেই। ১০ বছর আগে সামাজিক বনায়নের পরিমাণ ছিল শতকরা ১৪.২ একর। তবে বর্তমানে তা অনেকাংশে কমে গেছে। সঠিক কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। কেউ হনুমান শিকার করলে বা ক্ষতির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি আরো বলেন, জেলায় বন না থাকায় হনুমানের অভয়ারণ্য ঘোষণা করার কোনো সুযোগ নেই। বন বিভাগের হিসাবে বর্তমানে ভবনগর গ্রামে রয়েছে দুই শতাধিক কালোমুখো হনুমান। অথচ একসময় ছিল দ্বিগুণেরও বেশি। প্রাকৃতিক আবাস ধ্বংস, খাবার সংকট আর মানবসৃষ্ট বৈরী পরিবেশে প্রাণির সংখ্যা দ্রুত কমছে।

পরিবেশবিদদের মতে, এভাবে চলতে থাকলে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে এ বিরল প্রজাতির হনুমান, ক্ষতিগ্রস্ত হবে এ অঞ্চলের জীববৈচিত্র‍্যও। তাই সবার আগে প্রয়োজন সুপরিকল্পিত সংরক্ষণ উদ্যোগ, খাবারের স্থায়ী ব্যবস্থা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা।

কোস্ট গার্ডের অভিযানে বিদেশি মদসহ আটক ১

ডিবির অভিযানে ৪৯৭ বোতল কোরেক্স জব্দ, গ্রেপ্তার ২

১২ বছর ভাত না খেয়ে থাকা বিএনপি সমর্থক নিজাম মারা গেছেন

মরা মুরগি ফেলে নদী দূষণ, ১৫ দিনের মধ্যে পরিষ্কারের নির্দেশ

মহেশপুর সীমান্তে যুবকের লাশ উদ্ধার

সুন্দরবনের রিসোর্ট মালিক ও পর্যটক অপহরণের মূলহোতা আটক

মেহেরপুরে গুলিসহ পিস্তল উদ্ধার, আটক ১

অসুস্থ শিশুকে দেখতে মোংলায় জামায়াত প্রার্থী

চুয়াডাঙ্গায় শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

বিএনপি-জামায়াতের জোর প্রচারে সরগরম ভোটের মাঠ