খুলনার লবণচরা এলাকায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)-এর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ।
গ্রেপ্তার হওয়া তিন আসামি হলেন, হত্যাকাণ্ডের হোতা মো. শামীম শেখ ওরফে শেখ শামীম আহম্মেদ, তরিকুল ইসলাম তারেক (২৬) এবং তাফসির হাওলাদার (২০)। এর আগে গত ১৬ নভেম্বর লবণচরার দরবেশ মোল্লা গলির একটি বাড়ি থেকে একই পরিবারের তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন, নানি মহিতুন্নেছা (৫৩), নাতনি ফাতিহা (৭) ও নাতি মুস্তাকিম (৮)। ঘটনার পর নিহত শিশুদের পিতা সেফার আহমেদ বাদী হয়ে লবণচরা থানায় মামলা দায়ের করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, অস্ত্র মামলায় জেলে থাকাকালে শামীম একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে। জেল থেকে বের হয়ে বড় অংকের টাকায় ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়োগ করে প্রতিপক্ষ সেফার আহমেদের পরিবারকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন রাতে সেফার আহমেদের বাড়িতে ঢুকে তার শাশুড়ি মহিতুন্নেছাকে প্রথমে ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। পরে একই কায়দায় ফাতিহা ও মুস্তাকিমকেও হত্যা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, হত্যাকাণ্ডের জন্য আসামিরা মোট এক লাখ টাকা পায়। এতে মোট ৬–৭ জন জড়িত ছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনার পর শামীম শেখ পলাতক ছিলেন এবং বিদেশে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। পরে গত ২৬ নভেম্বর ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর শামীম শেখ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামি শেখ শামীম আহম্মেদ বাদীর সম্পর্কে মামাতো ফুফাতো ভাই। সংবাদ সম্মেলনে লবণচরা থানার ওসি হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুমসহ কেএমপি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।