জামালপুর শহরের ব্যস্ত সড়কে রঙিন টি-শার্ট, শার্ট আর জার্সি সাজানো একটি ছোট্ট ভ্রাম্যমাণ গাড়ি ঘিরে ভিড় করছেন ক্রেতারা। কেউ পোশাকের দাম জিজ্ঞেস করছেন, কেউ আবার পছন্দের রং খুঁজছেন। হাসিমুখে সবার সঙ্গে কথা বলছেন এক তরুণ। তিনি কোনো প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী নন। তিনি সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আকিজুল ইসলাম সৌরভ। বয়স ২১ বছর। তবে তার স্বপ্ন অনেক বড়, একদিন সফল উদ্যোক্তা হয়ে অন্যের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন।
জামালপুর সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের ব্যাপারীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সৌরভ। ব্যবসায়ী বাবা শফিকুল ইসলামের কাছ থেকেই ব্যবসার প্রতি আগ্রহ জন্মেছে তার। ছোটবেলা থেকেই বাবার ব্যবসা দেখেছেন, শিখেছেন মানুষের সঙ্গে লেনদেনের কৌশল।
চারপাশে শিক্ষিত তরুণদের দীর্ঘদিন চাকরির পেছনে ছুটতে দেখে ভিন্নভাবে ভাবতে শুরু করেন সৌরভ।
সৌরভ বলেন, ‘আমি চাই না শুধু একটি চাকরির জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে। আমি চাই এমন একজন মানুষ হতে, যিনি একদিন অন্যদের চাকরির সুযোগ তৈরি করবেন।’
বাবার কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে যাত্রা শুরু করেন তিনি। এর মধ্যে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় করে তৈরি করেন একটি আকর্ষণীয় ও ব্যতিক্রমধর্মী ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়গাড়ি। বাকি ২০ হাজার টাকায় কেনেন পোশাক। প্রায় ছয় মাস আগে সেই ছোট্ট উদ্যোগই আজ তার আত্মবিশ্বাসের সবচেয়ে বড় ভিত্তি। প্রতিদিন প্রায় ছয় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কলেজে যান সৌরভ। ক্লাস শেষ হলেই বদলে যায় তার পরিচয়। দিনের ব্যবসা শেষে ভ্রাম্যমাণ দোকান শহরের ইকবালপুর এলাকায় ফুপুর বাসায় রেখে বাড়ি ফেরেন।
ভ্রাম্যমাণ দোকানের বিশেষ সুবিধার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমার দোকান স্থির নয়, তাই ক্রেতার কাছে যেতে পারি। যেখানে মানুষের ভিড় বেশি, সেখানেই দোকান নিয়ে যাই। ’
এই ব্যবসা থেকেই নিজের লেখাপড়ার খরচ চালাচ্ছেন সৌরভ। শুধু তাই নয়, প্রতিমাসে কিছু অর্থ সঞ্চয়ও করছেন। সৌরভের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যেই অনেক তরুণকে অনুপ্রাণিত করেছে।
উন্নয়নকর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, ‘বর্তমান সময়ে তরুণদের জন্য আত্মকর্মসংস্থানই সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা। সৌরভের মতো উদ্যোগ শুধু একজন মানুষের জীবন বদলাবে না, ভবিষ্যতে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি করবে।’