ছাগল বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতি
‘‘ছাগল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, মিটারে লোহার রিং ঢুকিয়ে বাড়ানো হয় ওজন’’ গত ১৮ মে এই শিরোনামে আমার দেশ অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পরে একজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও ১১ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জেলাজুড়ে বদলি করেছে কলমাকান্দা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।
গত ১৮ মে নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে সমতলভূমিতে বসবাসরত অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ছাগল বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে আমার দেশ-এ সংবাদ প্রকাশ হলে নড়ে চড়ে বসে প্রশাসন।
এরপর গত বুধবার (২০ মে) প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহজামান খান স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশে সাময়িক বরখাস্ত ও গণবদলির এ সিদ্ধান্ত জানান।
আদেশে বলা হয়, জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর, নেত্রকোনার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কলমাকান্দা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক রাহাতুল্লাহর বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি আইন ও সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী অসদাচরণের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্তের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি মোতাবেক খোরপোষ ভাতা পাবেন।
একই দিনে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পারস্পরিক বদলি করা হয়। এর মধ্যে কলমাকান্দা উপজেলা থেকেই একাধিক কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীকে অন্য উপজেলায় বদলি করা হয়েছে এবং নতুনদের পদায়ন করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দপ্তরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদ—ইউএলএ ও অফিস সহায়ক—দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এছাড়া ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর যোগদানের পর থেকে কর্মকর্তা আকিজা খাতুন প্রায় ৭ বছর ৭ মাস ধরে প্রেষণে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, ঢাকায় কর্মরত রয়েছেন বলেও জানা গেছে। ফলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে জনবল সংকট আরও তীব্র হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
হঠাৎ করে একই উপজেলার একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বরখাস্ত ও গণ-বদলির ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জনবল সংকটও দ্রুত নিরসন করা প্রয়োজন।
এএস