দেশের তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয়, চাকরিদাতা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) পাঁচ দিনব্যাপী ‘উদ্যোক্তা ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সভাকক্ষে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে এবং কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সহযোগিতায় আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ জন শিক্ষার্থী।
বিসিক ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের সহকারী অনুষদ সদস্য মো. আশিকুর রহমান জয়ের সঞ্চালনায় এবং পরিচালক (দক্ষতা ও প্রযুক্তি) মো. সহিদুজ্জামানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম এবং কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম। এছাড়া কৃষিব্যবসা ও বিপণন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, বিসিক ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের প্রধান অনুষদ সদস্য ও কোর্স পরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম, সহযোগী অনুষদ সদস্য ও কোর্স সমন্বয়কারী মো. কামরুল আহসানসহ শিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে মো. সহিদুজ্জামান বলেন, বিসিকের মূল লক্ষ্য দেশের শিল্প ও অর্থনীতির উন্নয়ন। বর্তমানে দেশের ১৯১টি কার্যালয়ের মাধ্যমে আমরা সেবা প্রদান করছি। প্রায় ৫৮ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ এবং বছরে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার ভ্যাট, ট্যাক্স ও শুল্ক আহরণের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে বিসিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আমরা উদ্যোক্তাদের ঋণ সুবিধাও দিয়ে থাকি। বর্তমানে বিসিকের ৮৩টি শিল্পনগরীতে ৮ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, বর্তমানে দেশে বিপুলসংখ্যক গ্র্যাজুয়েট তৈরি হচ্ছে, কিন্তু সে অনুপাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ছে না। তাই শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয়।
ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক বলেন, সব গ্র্যাজুয়েটকে চাকরি দেওয়া সম্ভব নয়। আমাদের এমন মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে, যাতে আমরা নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারি। আমি আশা করি, এই প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, বর্তমান প্রজন্ম প্রযুক্তি ও যোগাযোগ দক্ষতায় অনেক এগিয়ে। ফলে এ ধরনের প্রশিক্ষণ তাদের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে। কৃষি একটি বিশাল সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। এই খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে আরও বেশি প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রয়োজন। পরিশ্রম, সততা এবং সুস্পষ্ট লক্ষ্য ছাড়া জীবনে সফল হওয়া সম্ভব নয়। আমি বিশ্বাস করি, এখানে অংশগ্রহণকারী ৩০ জন শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে অন্তত অর্ধেক আগামী দিনে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
প্রশিক্ষণে শিক্ষার্থীদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাজার বিশ্লেষণ, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, স্টার্টআপ পরিচালনা এবং উদ্ভাবনী চিন্তাচর্চা বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের সনদপত্র প্রদান করা হবে।
এমই