তর বাবারে মারতাম চাইছলাম না
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে আব্দুল বারেক আকন্দ ওরফে মজনু মুন্সি (৫৩) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত মজনু মুন্সি উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের দুর্বারচর গ্রামের মৃত আব্বাস আলী আকন্দের ছেলে। রোববার রাত আনুমানিক পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার ভাংনামারী ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া সড়কে এ নিহতের ঘটনা ঘটে।
এদিকে রোববার রাতে নিহতের ছিনতাই হওয়া মুঠোফোন দিয়ে তার মেয়ে মাহিয়া আক্তার বৃষ্টি‘র মুঠোফেনে ঘাতকদের কেউ ফোন দিয়ে বলে- ‘তর বাবারে মারতাম চাইছলাম না, হেরা কয়েকটা ফার (ঘা) বেশি দিছে, কিন্তুক তর বাবা মইরা গেছে’-এই বলেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফোনটি বন্ধ করে দেয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত পৌনে ১০টায় বয়ড়া বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন মজনু মুন্সি। পথে চন্দ্রপাড়া সড়কে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তার পথরোধ করে তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাদের ছুরিকাঘাতে তিনি গুরুতর আহত হলে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে সড়কে ফেলে রেখে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সোমবার কোতোয়ালি মডেল থানা নিহতের সুরতহাল প্রস্তুত এবং ময়নাতদন্তের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করছে।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে নিহতের ছিনতাই হওয়া মুঠোফোন দিয়ে তার মেয়ে মাহিয়া আক্তার বৃষ্টি‘র মুঠোফোনে ঘাতকদের কেউ ফোন দিয়ে বলে- ‘তর বাবারে মারতাম চাইছলাম না, হেরা কয়েকটা ফার (ঘা) বেশি দিছে, কিন্তুক তর বাবা মইরা গেছে’-এই বলেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফোনটি বন্ধ করে দেয়।
নিহতের ছেলে মাজহারুল ইসলাম আকাশ জানান, তার বাবা বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে কয়েকজন ছিনতাইকারী পথ আটকায়। এ সময় তিনি তাদের চিনে ফেলায় ছিনতাইকারীরা তার বাবাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, স্থানীয় পশ্চিম পাড়ার কিশোর গ্যাংয়ের ৩ সদস্য এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে তার বাবা মৃত্যুর আগে বলে গেছেন। এ ছাড়া ঘটনার পরপরই বাবার মোবাইল ব্যবহার করে বোন বৃষ্টির নম্বরে কল করে একজন হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকারও করেছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরীপুর থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এমএইচ