জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে ঈদে ঘুরতে এসে শতাধিক দর্শনার্থী নিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত ভাসমান সেতু ধসে পানিতে ডুবে নিহত পাঁচ শিশুর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. ইউসুপ আলী।
রোববার (২২ মার্চ) নিহত শিশুদের নিজ নিজ এলাকায় জানাজার পর দাফন সম্পন্ন হয়। শোকাহত পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে দেওয়ানগঞ্জে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এর আগে শনিবার বিকেলে দেওয়ানগঞ্জ থানার সামনে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত ভাসমান সেতুটি হঠাৎ ধসে পড়ে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন দেওয়ানগঞ্জের ঝালুরচর এলাকার শের আলীর ছয় বছর বয়সি ছেলে আব্দুল মোতালেব ও ১২ বছর বয়সি মেয়ে খাদিজা এবং একই উপজেলার ডাকাতিয়াপাড়া গ্রামের জয়নাল মিয়ার ১০ বছর বয়সি মেয়ে মায়ামনি, ১২ বছর বয়সি মিহাদিএবং বেলতৈল বাজার এলাকার হাবিবুল্লাহর ১৪ বছর বয়সি ছেলে আবির হোসেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঈদ উৎসব উদ্যাপনে ভাসমান সেতুটিতে অতিরিক্ত মানুষ পারাপারের সময় সেতুটি ধসে গিয়ে শতাধিক মানুষ পুরাতন বহ্মপুত্র নদে পড়ে যায়। বেশির ভাগ মানুষ সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও কয়েকজন শিশু নিখোঁজ হয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সময় অভিযান চালিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় একে একে পাঁচ শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
পাশাপাশি নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
জামালপুরের জেলা প্রশাসক মো. ইউসুপ আলী জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও ভূমি অফিসের সমন্বয়ে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।