কিশোরগঞ্জ–২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) সংসদীয় আসনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতৃবৃন্দসহ দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীরা সব ধরনের দ্বিধা–দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করার শপথ গ্রহণ করেছেন শনিবার রাতে।
দীর্ঘদিন ধরে কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মাঝে বিরোধ চলে আসছিল। ফলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে উপজেলা বিএনপি দুটি ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। ফলে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে মতানৈক্যের কারণে পৃথকভাবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার ফলে নেতাকর্মীদের মাঝে অনৈক্যর বার্তা ছড়িয়ে পড়ে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে শতভাগ বিজয়ী করার করার লক্ষ্যে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিনের উপস্থিতিতে শনিবার রাতে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের সমর্থকদের নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিলে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও উচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়। স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, এ ঐক্য ধানের শীষের বিজয়ের পথে বড় শক্তি হয়ে উঠবে।
দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে নিয়মিত মতবিনিময় সভা, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। নেতাকর্মীদের বিশ্বাস, এই ঐক্য বজায় থাকলে কিশোরগঞ্জ–২ আসনে বিএনপির বিজয় নিশ্চিত করা সম্ভব।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থানীয় নেতারা বলেন, ব্যক্তিগত অবস্থান ও মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে দলীয় স্বার্থকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ধানের শীষের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে সবাই একযোগে কাজ করছেন এবং জনগণের অধিকার আদায়ে বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন–সংগ্রামে থাকবে।
বর্তমানে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী -পাকুন্দিয়া) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে ধানের শীষের বিজয়ের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় যুবদল ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিন আকিল, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শিল্পপতি আশফাক আহমেদ জুন, সুইডেন প্রবাসী ও জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদুজ্জামান কাকন, কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপ, কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি কামাল উদ্দিন, সাবেক উপজেলা যুবদল সভাপতি আহমদ ফারুক খোকন, যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা খন্দকার আল আশরাফ মামুন, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য গোলাম ফারুক চাষী, কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা মো. আবুল হোসেন মোশাহিদসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী।
উল্লেখ্য, ১৯৭৩ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত শুধুমাত্র কটিয়াদী উপজেলা নিয়ে গঠিত ছিল কিশোরগঞ্জ-৩ সংসদীয় আসনে আটটি নির্বাচনের মধ্যে চারটিতে বিএনপির প্রার্থীরা বিজয় অর্জন করেন। ১৯৭৯ সালে আনিসুজ্জামান খোকন এবং ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন নির্বাচিত হন। এছাড়া ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির হাবিবুর রহমান দয়াল জয়লাভ করেন। এই ইতিহাসের কারণে কিশোরগঞ্জ–২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসনকে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।