এখানে চিকিৎসক নয়, ভাগ্যই বাঁচায় রোগীকে
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তাদের স্বজনেরা। অভিযোগ রয়েছে, জরুরি বিভাগে অধিকাংশ সময়ই দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক উপস্থিত থাকেন না।
দুর্ঘটনা, শ্বাসকষ্ট, স্ট্রোক কিংবা গুরুতর অসুস্থ রোগী নিয়ে জরুরি বিভাগে পৌঁছালেও চিকিৎসা শুরু করার পরিবর্তে প্রথমেই চিকিৎসককে মুঠোফোনে কল দিয়ে ডেকে আনতে হয়। অনেক সময় চিকিৎসক ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অবস্থান করায় হাসপাতালে আসতে দেরি হয়। এতে রোগীর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় ও রোগীর স্বজনদের ভাষ্যমতে, জরুরি বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় চিকিৎসকের অনুপস্থিতি এখানে যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। রাতের অধিকাংশ সময় জরুরি বিভাগে চিকিৎসক পাওয়া যায় না। একাধিকবার ফোন করেও সাড়া মেলে না। তখন বাধ্য হয়ে রোগীর স্বজনদের চিকিৎসকের সরকারি বাসভবনে বাসায় গিয়ে ঘুম ভেঙে ডেকে আনতে হয়।
নিকলী সদরের ষাইটধার গ্রামের মো. লোকমান হোসেন বলেন, ‘তার ছোট ভাই হঠাৎ করে মাথা চক্কর দিয়ে মাটিতে পড়ে গেলে তাকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পেশার পরীক্ষা করেই জেলা সদরে রেফার্ড করে দেন।’
আরও গুরুতর অভিযোগ করে ভুক্তভোগী খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে জরুরি বিভাগে কর্মরত ওয়ার্ডবয় ও এমএলএসএস প্রাথমিক চিকিৎসার নামে রোগীদের ইনজেকশন ও ওষুধ প্রয়োগ কাটা ছেঁড়া সেলাই করে থাকেন। কর্মচারীদের মাধ্যমে এভাবে চিকিৎসা দেওয়া রোগীর জীবনের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ বলে তিনি জানিয়েছেন।’
সিনিয়র সাংবাদিক সোহেল রানা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অনিয়ম চললেও উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। জরুরি বিভাগে চিকিৎসক না থাকা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা ও জবাবদিহির অভাবেরই বহিঃপ্রকাশ। হাসপাতালে এসে বুঝতে পারি, এখানে চিকিৎসক নয়, ভাগ্যই বাঁচায় রোগীকে।
নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সজীব ঘোষ আমার দেশকে বলেন, ‘জরুরি বিভাগের জন্য আলাদা কোনো চিকিৎসক নেই। জরুরি বিভাগে অনকলের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসক সংকট থাকার কারণে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা কার্যক্রম কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে।’