স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীর ওপর হামলায়
ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়ীয়া) আসনে নির্বাচনি প্রচারকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মাঠ। নির্বাচনি সহিংসতা, কর্মীদের ওপর হামলা এবং অপপ্রচারের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দিন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে ফুলবাড়ীয়া প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত মনোনীত ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন বলেন, শুক্রবার বালিয়ান ইউনিয়নের মোহাম্মদ নগর বাজারে এক কর্মীকে মারধরের ঘটনার সাথে তাকে জড়িয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির সাথে তার কোনো পারিবারিক সম্পর্ক নেই বলে তিনি দাবি করেন। এবং ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ তুলেন।
এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক জসিম উদ্দিন শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে একই স্থানে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, শুক্রবার দুপুরে বালিয়ান ইউনিয়নের মোহাম্মদ নগর বাজারে তার কর্মী ও ছাত্র শিবিরের সাবেক উপজেলা সভাপতি এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা আশিকুল ইসলামের ওপর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
তিনি বলেন, “হামলায় আশিকুলের মাথায় ও শরীরে রক্তাক্ত জখম হয়েছে এবং একটি দাঁত ভেঙে গেছে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।”
এই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার সন্ধ্যায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর নেতাকর্মী ও হাজার হাজার সমর্থকেরা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। তারা এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
বিক্ষোভ মিছিলে বক্তারা বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দিনের বিশাল জনপ্রিয়তা দেখে এবং ঘোড়ার বিজয় সুনিশ্চিত এটা ভেবে ঈর্ষান্বিত হয়ে জামায়াত প্রার্থীর লোকজন পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। নির্বাচনি পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতেই এ হামলা করা হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
জানা যায়, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলনের আত্মীয় (মামাতো ভাই) আলামিনের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়।
ফুলবাড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল্লাহ সাইফ জানান, মোহাম্মদ নগর বাজারের ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।