জামালপুরে ডিজেলের তীব্র সংকটে ২৮ হাজার সেচপাম্প অচল হয়ে পড়ায় বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা শহরের বিভিন্ন পেট্রোলপাম্প ও ডিলার পয়েন্টে ভোর থেকেই জড়ো হচ্ছেন কৃষকরা। হাতে জার, বোতল কিংবা ড্রাম নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকেই পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত ডিজেল। কোথাও কোথাও সীমিত পরিমাণে তেল সরবরাহ করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। বেশিরভাগ পাম্পেই ঝুলছে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড। এতে করে ক্ষোভ আর হতাশা বাড়ছে কৃষকদের মধ্যে।
মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের পুঠিয়া পাড়া এলাকার কৃষক সেলিম মিয়া বলেন তিনচার দিন ধরে ঘুরতেছি কিন্তু তেল পাই না। জমিতে পানি দিতে পারতেছি না। ধানগাছ শুকায়া যাইতেছে। এবার ফলন হইবো কিনা আল্লাহ জানে।
সদর উপজেলার লক্ষীরচর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, আগে যেখানে ৯-১০ দিন পরপর সেচ দেওয়া যেত, এখন সেখানে ১৫ দিনেও সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে জমির মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে, ধানের চারা ফ্যাকাসে হয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেতেই আগাম ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে প্রায় ২ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলার সাতটি উপজেলায় মোট ৫৩ হাজার ৩৬৮টি সেচপাম্প রয়েছে, যার মধ্যে ২৮ হাজার ১০৩টি ডিজেলচালিত। এসব সেচপাম্পের মাধ্যমে প্রায় ৫০ হাজার ৪০৬ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ডিজেল সংকটে অধিকাংশ শ্যালো মেশিন বন্ধ হয়ে থাকায় এই বিশাল আবাদ এলাকা ঝুঁকির মুখে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শরীফ আলম খান বলেন, জেলার প্রায় ৭০ শতাংশ কৃষিজমি বিদ্যুৎচালিত সেচের আওতায় রয়েছে। তবে বাকি অংশে ডিজেলচালিত সেচের ওপর নির্ভরতা বেশি। এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে উৎপাদনে প্রভাব পড়বে।
অন্যদিকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা জ্বালানি তদারকি কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ-বিন-রশিদ বলেন, ডিজেলের কোনো সংকট নেই। সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
জেডএম