'সংসদ নির্বাচনে মানুষ হত্যা করে একটি দল আসন নিজেদের করে নিতে চায়' বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রবিবার দুপুরে শেরপুরে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত রেজাউল করিমের কবর জিয়ারত শেষে গোপালখিলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
পথসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, 'নিহত রেজাউলের অবুঝ সন্তানকে আমি বুকে নিয়েছি। নিহত রেজাউলের আমানত আমি আপনাদের জিম্মায় রেখে গেলাম। ১২ তারিখ ভোট ব্যালটের মাধ্যমে আপনারা এর জবাব দেবেন।'
প্রশাসনের প্রতি আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, 'কেমন প্রশাসন? মামলা হওয়ার পরও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে নাই? আপনারা নিরপেক্ষ থাকুন। কোনো নির্দিষ্ট দলের পক্ষে দয়া করে কাজ করবেন না। তাহলে মানুষ আপনাদেরকে ভালোবাসবে। যদি কোনো দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে লিপ্ত হন, তাহলে এই জাতি আপনাদের বরদাশত করবে না।' এ সময় তিনি রেজাউল করিমের হত্যাকারীদের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি জানান।'
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে নিহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াত সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমের কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সকালে ১০টা ৫৮ মিনিটে হেলিকপ্টার যোগে শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের গোপালখিলা হাই স্কুল মাঠে অবতরণ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। কবর জিয়ারতের পর রেজাউলের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও ময়মনসিংহ অঞ্চল পরিচালক ড. মো. ছামিউল হক ফারুকী, শেরপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের এমপি প্রার্থী মু. নুরুজ্জামান বাদল, শ্রীবরদী উপজেলা আমির আজাহারুল ইসলাম মিষ্টারসহ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এবং স্থানীয় এলাকাবাসী।
নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী শ্রীবরদীতে রেজাউলের কবর জিয়ারত ও দোয়া মোনাজাত শেষ করে দুপুর ১২টা ২০মিনিটে হেলিকপ্টার যোগে শেরপুরের দারোগা আলী পৌর পার্কের জনসভার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়াম মাঠে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের মধ্যে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষে জামায়াতে ইসলামীর শ্রীবরদী উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে জেলা সদর হাসপাতাল থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে রাত ১০টার দিকে তিনি মারা যান। ওই দিনের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।
এদিকে সংঘর্ষের দুইদিন পর রেজাউলের স্ত্রী মারজিয়া বাদী হয়ে শেরপুর-৩ আসনের বিএনপির এমপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলসহ স্বনামে ২৩১ জন ও অজ্ঞাত ৪০০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে এই মামলায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।