ময়মনসিংহ নগরীর একটি বাসা থেকে যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে রাজিব আহম্মেদ ওরফে রুবেল নামের ওই ব্যক্তির রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মো. রনি মিয়া ও সজল নামে দুজনকে আটক করা হয়। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত রুবেল (৪০) নগরীর আরকে মিশন রোড এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে। মাসখানেক আগে তিনি ৩৬ বাড়ি কলোনির বাসিন্দা ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী পারুল আক্তারের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠেন। সেখানে তিনি কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে থাকতেন। গত রোববার সকালে অজ্ঞাতপরিচয় একদল দুর্বৃত্ত রুবেলের কক্ষে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে বাঁশ দিয়ে উপর্যুপরি তাকে মারধর করে গুরুতর জখম করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলাকেটে ঘরের মেঝেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
চিৎকার ও হট্টগোল শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় রুবেলকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল শেষে উদ্ধার করে। এ সময় তার মাথার পাশে একটি মদের বোতল পাওয়া যায়। পুলিশ জানায়, নিহতের বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্তসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রুবেল এলাকায় মাদকসেবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাদকসংক্রান্ত বিরোধ, নাকি ব্যক্তিগত শত্রুতা তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে বাসার অন্য ভাড়াটিয়ারা এবং বাড়ির মালিক পারুল আক্তার পলাতক রয়েছেন।
নিহতের বোন রুনা আক্তার অভিযোগ করেন, আমার ভাইকে মেরে ফেলার খবর পেয়ে এখানে এসেছি। এ বাসার লোকজনই তাকে মেরেছে।
ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, আমরা একটি গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছি। ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্যউপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। সেসব তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে কাজ চলছে।
এএস