কৃষক সামাদের আর্তনাদ
ভারতীয় নাগরিকরা অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে সীমান্তের দুই বিঘা জমির গম, সরিষা, ভুট্টা ও আমগাছ কেটে বাংলাদেশী এক কৃষকের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ওই কৃষকের নাম কৃষক আব্দুস সামাদ। তিনি একই এলাকার বাসিন্দা।
রোববার কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে তিনি আমগাছের পাশাপাশি গম, সরিষা, ভুট্টা আবাদ করেন। এখন সবকিছুই নষ্ট হয়ে আমরা পথে বসে গেছি। সবকিছু শেষ; এখন আমরা খাব কী?’ ভারতের ওরা সন্ত্রাসী। সন্ত্রাসী ছাড়া কেউ ফসলের সাথে শত্রুতা করতে পারে না।
এর আগে শনিবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কিরনগঞ্জ ও চৌকা সীমান্তে এমন তাণ্ডব চালিয়ে বিভিন্ন ফসলের এমন ক্ষয়ক্ষতি করেন ভারতীয়রা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কিরনগঞ্জ সীমান্তে শুধু আব্দুস সামাদ না আরও কয়েকজন কৃষকের ফসল কেটে দেন ভারতীয় নাগরিকরা। এতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পথে বসেছেন বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকরা।
এ বিষয়ে কৃষক আব্দুস সামাদের স্ত্রী রেহেনা খাতুন বলেন, ‘আমাদের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সহযোগিতায় সেদেশের নাগরিকরা হাঁসুয়া দিয়ে ভুট্টার গাছসহ ফসল কেটেছে, আমাদের সব স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে।’
আরেক জমির মালিক শিবগঞ্জ উপজেলার নামো কালিগঞ্জ গ্রামের আলতাব হোসেন বলেন, ‘গত ৩০ বছর ধরে আমি সীমান্তের জিরো লাইনের ধারে দেড় বিঘা জমিতে আমবাগান ও ভুট্টা চাষাবাদ করেছিলাম। কিন্তু ভারতীয় নাগরিকরা আমার জমিতে থাকা সাতটি আমগাছ কেটে ফেলেছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাতে গেলেই তারা ককটেল, পাথর ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। আমার জমির সব ভুট্টা গাছ কেটে নষ্ট করে দিয়েছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম জানান, ইচ্ছে করে ঝামেলা তৈরির উদ্দেশ্যে এসব ফসল কেটেছে। প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টো হামলা করে আমাদের দেশের নাগরিকদের আহত করেছে। কয়েকদিন আগে গত ৬ থেকে ৮ জানুয়ারি একই জায়গায় সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে তারা জিরো লাইনের ৫০ থেকে ১০০ গজের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করতে গেলে বাধা দেয় বিজিবি।
স্থানীয় যুবক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সীমান্তে উত্তেজনার সময় প্রচুর লোক সমাগম হয়। এখানে রাস্তা সেরকম নেই। সেজন্য মানুষের ভিড় করেন কৃষকের জমিতে। এতে জমির সবটুকুই ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এ বছর পেঁয়াজের বীজের যে দাম। বীজ কিনতেই আমাকে এক লাখ টাকা দিতে হয়েছে। এ ছাড়াও সার আছে, কীটনাশক আছে। আমরা সব মিলিয়ে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।’
সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত হলে ক্ষতি যাচাই করবে কৃষি বিভাগ। এর ভিত্তিতে কৃষকদের প্রণোদনার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নয়ন মিয়া।
তিনি বলেন, ‘সীমান্তে উত্তেজনার সময় প্রচুর উৎসুক জনতা গিয়েছিলেন। ওই সময় মাঠগুলোতে ভুট্টা, গম, সরিষা, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসল ছিল। এতে সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাবো এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের বিনোদনপুর ইউনিয়নের চৌকা সীমান্তে ৫০০ হেক্টরের বেশি জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে বলে জানায় শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি বিভাগ।
উল্লেখ্য, শনিবার দুপুরে ভারতীয় নাগরিকরা জিরো লাইন পার হয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে আমগাছ কাটলে বাধা দেয় স্থানীয়রা। এমনকি বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষ জড়িয়ে পড়ে দুই দেশের নাগরিকরা। এ সময় ভারতীয় নাগরিক ও বিএসএফ সদস্যরা ১০টি ককটেল, সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও পাথর নিক্ষেপ করে। পাশাপাশি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করা হয়। এতে পাথর ও হাঁসুয়ার আঘাতে আহত হয়েছেন শিবগঞ্জের উপজেলার কালীগঞ্জ নামোটোলা এলাকার মেসবাহুল হক, বিশ্বনাথপুর গ্রামের মো. রনি ও মো. ফারুক।