নাটোরের গুরুদাসপুরে কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না কৃষিজমিতে পুকুর খনন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হলেও সপ্তাহ যেতে না যেতেই আবার সক্রিয় হয়ে উঠে পুকুর খনন চক্রের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, পুকুর খননের কারণে দুই ও তিন ফসলি কৃষিজমি কমেছে প্রায় ১২০ হেক্টর। ফলে প্রায় ১০০ টন ধানের আবাদ কমেছে। এসব জমিতে বছরে দুইবার ধানসহ পাট, সরিষা ও সবজি জাতীয় আবাদ হতো।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গুরুদাসপুর পৌরসভাসহ উপজেলার ছয় ইউনিয়নে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০টি পয়েন্টে পুকুর খনন চলছে। সরকারি দলের ছত্রছায়ায় একটি চক্র এসব পুকুর খননের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। চক্রটি ইটভাটা, বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে পুকুর খননের মাটি বিক্রি করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু কিছুদিন না যেতেই আবার খননে সক্রিয় হয়ে ওঠে চক্রটি।
এদিকে চক্রটি কখনোবা ক্ষেতের উপরিভাগের মাটি বিক্রি করে। যে কারণে নষ্ট হচ্ছে পাকা সড়ক। একই কারণে নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সড়ক এলাকার মানুষ, পরিবেশ ও প্রতিবেশ। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ থাকলেও চক্রটি সরকারি দলের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাদের দৌরাত্ম্য কমছে না।
প্রশাসনও লোক দেখানো অভিযান চালিয়ে নিশ্চুপ থাকছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গুরুদাসপুর পৌরসভার মধ্যমপাড়ায় পাঁচটি উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের সাহাপুরে তিনটি ও ধারাবারিষা ইউনিয়নের চরকাদহ ও হাজিরহাটে দুটি এবং নাজিরপুর ইউনিয়নের শ্যামপুরে একটিসহ মোট ১১টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। অথচ পাঁচ বছরেও মাত্র দুইটি ছাড়া অন্য ৯টি ইটভাটা নবায়নের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এসব ইটভাটার কাঁচা ইট তৈরির জন্য মাটির চাহিদা রয়েছে।
কিন্তু একাধিক চক্র ইটভাটায় মাটি সরবরাহের নামে বাণিজ্যিকভাবে কৃষিজমি খনন করে মাটি বিক্রির প্রতিযোগিতায় রয়েছে।
গত শুক্রবার উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের মাঝপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে তিনটি পয়েন্টে কমপক্ষে ৪০ থেকে ৪৫ বিঘা জমিতে পুকুর খনন চলছে। স্থানীয়রা জানায়, সরকারি দলের নাম ভাঙ্গিয়ে চিহ্নিত কিছু ব্যক্তি এসব পুকুর খনন করছেন। অথচ গেল ৪ জুন সেখানকার একটি পয়েন্ট থেকে মাটি খননযন্ত্রের ব্যাটারি খুলে এনেছিল উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু দুই সপ্তাহ যেতে না যেতেই আবার পুকুর খনন শুরু হয়েছে।
পরিবেশ আইন উপেক্ষা করে ৯টি ইটভাটা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ইট প্রস্তুতির জন্য কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি সংগ্রহ করে ইট তৈরি করছে। এদিকে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমির মাঝখানে স্থাপিত এসব ইটভাটা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া ও দূষণে ফসল, গাছপালা এবং পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।
গুরুদাসপুর উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মোশারফ হোসেন দাবি করেন, ভাটা টিকিয়ে রাখতে দুই তিনটি পয়েন্ট থেকে মাটি সংগ্রহ করছে ভাটা মালিকরা।
অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বলেন, গেল দেড় মাসে কমপক্ষে ১৫টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে খননযন্ত্রের ব্যাটারিও খুলে আনা হয়েছে। তিনটি মাটিকাটার যন্ত্র উদ্ধার করে উপজেলা চত্বরে রাখা হয়েছে।