নাটোর-১ আসন
নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সংখ্যালঘু ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগসহ নানা অভিযোগ তুলেছেন স্বতন্ত্র (বিএনপির বিদ্রোহী) প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপু।
শনিবার লালপুর উপজেলার ওয়ালিয়া এলাকায় কলস প্রতীকের নির্বাচনি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তাইফুল ইসলাম টিপু বলেন, একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে। তাদের ভোটকেন্দ্রে না যেতে চাপ দেওয়া হচ্ছে এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন,“নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সংখ্যালঘু ভোটারদের টার্গেট করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই, কিন্তু কিছু গোষ্ঠী সহিংসতা ও ভয়ভীতি দিয়ে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে।”
লালপুর উপজেলার কচুয়া এলাকায় শুক্রবার সংঘটিত সংঘর্ষের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, তার শান্তিপূর্ণ নির্বাচনি কার্যক্রমে বারবার বাধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে তার সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়ে সংঘর্ষের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। এতে তার ১৩ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এ সময় তিনি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগও তোলেন। একই সঙ্গে ঘটনার রাতে খলিল নামের তার এক নিরীহ কর্মীকে আটক করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী টিপু বলেন, সংখ্যালঘু ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
তিনি বলেন,“আমরা সংঘাত নয়, ভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় চাই। প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করলে এই আসনে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব। সে ক্ষেত্রে আমরাই বিজয়ী হব—ইনশাল্লাহ।”
এ সময় নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে তিনি ছয় দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—সংখ্যালঘু ভোটারদের হুমকিদাতাদের আইনের আওতায় আনা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার, নির্বাচনের আগে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন, ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করা, নাশকতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নিরীহ মানুষ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার বন্ধ করা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন গোপালপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মনজুরুল ইসলাম বিমল, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুজ্জামান, ওয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম সরকার, গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম রানা, বাগাতিপাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এ এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক, পৌরসভার সাবেক মেয়র শরিফুল ইসলাম লেনিনসহ তার নির্বাচনি সমর্থক ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা।