ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরছেন উত্তরাঞ্চলের মানুষ। কর্মব্যস্ত জীবনের টানে রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ফিরতে শুরু করেছেন উত্তর জনপদের লাখো মানুষ। তবে এবারের ফিরতি যাত্রায় যমুনা সেতুর পশ্চিম মহাসড়কে নেই যানজটের ভোগান্তি। স্বস্তি ও স্বাভাবিক গতিতেই গন্তব্যে ফিরছেন কর্মজীবী মানুষ। যানজট না থাকলেও যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা মিলেছে সিরাজগঞ্জ ভোক্তা অধিকারের অভিযানে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে সিরাজগঞ্জে ৫ সিএনজি অটোচালক ও দুটি যাত্রীবাহী বাসের সুপারভাইজারকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ সময় দুটি বাসের যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা ও অটোরিকশার যাত্রীদের কাছ থেকে আদায়কৃত ৪ হাজার টাকা যাত্রীদের ফেরত দেওয়া হয়েছে।
যাত্রী সুরাইয়া জাহান বলেন, সাধারণ সময়ে যে ভাড়া ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, এখন সেখানে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দাবি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও কাঙ্ক্ষিত সিট পাওয়া যাচ্ছে না।
ময়মনসিংহগামী যাত্রী আবুল কালাম বলেন, দাঁড়িয়ে গেলে ৫০০ টাকা ভাড়া চাওয়া হচ্ছে, আর আসনে বসে যেতে চাইলে আরও বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে।
প্রাইভেটকারের চালক নাসির উদ্দিন জানান, গাজীপুরের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকের সঙ্গে নাটোরে ঈদ করতে গিয়েছিলেন। ছুটি শেষে ঢাকায় ফেরার পথে মহাসড়কে কোনো যানজট না থাকায় নির্ধারিত সময়েই যাত্রা সম্পন্ন করতে পারছেন।
গাজীপুরগামী নারী যাত্রী শিরিন খাতুন ও মরিয়ম বেগম বলেন, ঈদের পর কর্মস্থলে ফিরতে বাসের ভাড়ায় অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। যাওয়ার সময় যেমন বেশি ভাড়া দিতে হয়েছে, ফেরার সময়ও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
তবে অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে বাসের সুপারভাইজার শাহিন শেখ বলেন, তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং খালি গাড়ি নিয়ে ফিরতে হওয়ায় কিছুটা বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ওসি ইসমাইল হোসেন বলেন, ঈদ-পরবর্তী ফিরতি যাত্রায় মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। কোথাও যানজটের সৃষ্টি হয়নি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সিরাজগঞ্জের সহকারী পরিচালক সোহেল শেখ বলেন, সোমবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সিরাজগঞ্জে যমুনা সেতু পশ্চিম গোলচত্বর ও মহাসড়কের সয়দাবাদ এলাকায় বিভিন্ন যানবাহনে র্যাব ও ভোক্তা অধিকার যৌথ অভিযান চালায়।
অভিযানে সিএনজি কর্তৃক অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা, প্রতিশ্রুত সেবা প্রদান না করায় পাঁচজন সিএনজি অটোচালককে ৩ হাজার টাকা এবং বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ায় এসআই পরিবহন ও যমুনা লাইন পরিবহনকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি ২৪ হাজার টাকা অতিরিক্ত ভাড়া যাত্রীদের তাৎক্ষণিক ফেরত দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। যাত্রীদের সেবায় টাস্কফোর্সের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এমএইচ