শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেও দিলেন প্রাণ:
একটি মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল দুটি জীবন। মায়ের চোখের সামনেই সড়কে ঝরে গেল আট বছরের শিশু আলিফের প্রাণ। আর তাকে বাঁচাতে ছুটে আসা এক যুবকও মৃত্যুর নির্মম শিকার হলেন। পাবনার ঈশ্বরদীতে হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন এক নারী।
রোববার (৭ জুন) রাত ৯টার দিকে দাশুরিয়া-লালন শাহ সেতু মহাসড়কের কোলেরকান্দি বটতলা এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের কোলাদি গ্রামের জাহিদ হোসেনের ছেলে আলিফ হোসেন (৮) এবং আতাইকুলা থানার শ্রীকোল গ্রামের বাশার শেখের ছেলে ও মুরগি ব্যবসায়ী বাকিবিল্লাহ (৩৫)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, রূপপুর এলাকা থেকে পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ঘুরে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে পরিবারসহ দাশুরিয়ার দিকে ফিরছিল আলিফ। কোলেরকান্দি এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল সিএনজিটিকে ধাক্কা দেয়। এতে শিশু আলিফ সিএনজি থেকে ছিটকে মহাসড়কে পড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেল আরোহী বাকিবিল্লাহ দ্রুত মোটরসাইকেল থামিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করতে ছুটে যান। কিন্তু ঠিক সেই সময় পেছন দিক থেকে দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাত যানবাহন এসে তাদের ধাক্কা দেয়। মুহূর্তেই গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান শিশু আলিফ ও বাকিবিল্লাহ।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রূপপুর মডার্ন ফায়ার স্টেশনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেন। একই সঙ্গে আহত আলিফের মা আঁখি খাতুন (৩০)-কে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
রূপপুর মডার্ন ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মাজেদুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেন এবং আহত নারীকে হাসপাতালে পাঠান।”
পাকশী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নান্নু মিয়া জানান, নিহতদের মরদেহ পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত অজ্ঞাত যানবাহনটি শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শিশুটিকে বাঁচানোর জন্য জীবন বাজি রেখে এগিয়ে গিয়েছিলেন বাকিবিল্লাহ। কিন্তু মানবিকতার সেই হাত বাড়ানোই শেষ পর্যন্ত তাঁর নিজের জীবনের বিনিময়ে শেষ হয়। ঘটনাটি এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এনেছে।
এসআর