চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় সরকারি অর্থায়নে একটি ড্রেন নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বাসেদ আলীকে সাময়িক বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মালেক।
রোববার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের উন্নয়ন সহায়তা তহবিল থেকে ৫ লাখ ৫২ হাজার ২০০ টাকা ব্যয়ে পাঁকা ইউনিয়নের বহিপাড়া গ্রামের মসজিদ থেকে মোয়াজ্জেমের বাড়ি পর্যন্ত ১৮৭ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩ ফুট প্রস্থের একটি ড্রেন নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। কাজটির বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন ইউপি সদস্য বাসেদ আলী।
কাজ শুরুর প্রথম দিনেই নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, ড্রেন নির্মাণে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া ঢালাইয়ের জন্য খোয়া, সিমেন্ট ও বালুর মিশ্রণ সরাসরি মাটির ওপর প্রস্তুত করা হয়েছে, যা সরকারি নির্মাণকাজের মানদণ্ডের পরিপন্থী।
অভিযোগ উঠার পরপরই এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা অনিয়ম দূর করে সঠিকভাবে এবং মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করে কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য বাসেদ আলী বলেন, “মিস্ত্রিদের ভুলের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। এতে যে ক্ষতি হবে, তা আমারই হবে। বিষয়টি আমি সংশোধন করে নেব।”
পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মালেক বলেন, “সবচেয়ে বড় ভুল হয়েছে খোয়া, সিমেন্ট ও বালুর মিশ্রণ সরাসরি মাটির ওপর প্রস্তুত করা। বিষয়টি জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যকে সাময়িক বহিষ্কার করে অন্য একজন সদস্যের তত্ত্বাবধানে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, “সরকারি উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যকে সাময়িক বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজ যাতে নির্ধারিত মান বজায় রেখে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করা হবে।”
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রশাসনের এ পদক্ষেপের ফলে উন্নয়নকাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।