হোম > সারা দেশ > রাজশাহী

রায়গঞ্জে প্রভাবশালীদের দখলে অস্তিত্ব সংকটে গাঢ়ুদহ নদী

আমিনুল ইসলাম হিরো, রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ)

রায়গঞ্জের এক সময়ের খরস্রোতা সলঙ্গার গাঢুদহ নদী আজ মরা খাল। ছবি: আমার দেশ

দীর্ঘদিন খননের অভাব, অব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের অবৈধ দখল ও দূষণের ফলে রায়গঞ্জের সলঙ্গায় প্রবাহিত গাঢ়ুদহ নদী আজ অস্তিত্ব সংকটে। একসময়ের খরস্রোতা নদীটি আজ ক্রমেই মরা খালে পরিণত হচ্ছে।

যার প্রভাব পড়ছে জনজীবন, অর্থনীতি, শিক্ষা, পরিবেশ ও ঐতিহ্যের ওপর। জানা গেছে, ইতিহাস ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন খ্যাত সলঙ্গা হাটের কোলঘেঁষেই প্রবাহিত এ গাঢ়ুদহ নদী একসময় ছিল ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এ নদীপথ ব্যবহার করে দেশ-বিদেশের নাবিকরা ঐতিহ্যবাহী সলঙ্গা হাটে পণ্য নিয়ে আসতেন। সময়ের পরিক্রমায় সেই কর্মচঞ্চল নদী আজ দখল ও দূষণের শিকার হয়ে কার্যত মৃতপ্রায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রাচীন ও ঐতিহাসিক গাঢ়দহ নদীর দুইপাশজুড়েই প্রভাবশালীদের দখলে। বিশেষ করে নদীটির পশ্চিম পাড়জুড়ে পাইলিং দিয়ে জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে দোকানপাট, সেলুন, পোল্ট্রি ব্যবসা, স্টিল ও মুদি দোকান, মোবাইল শপ,করাতকলসহ বহুতল আবাসিক ভবন। ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালীদের যোগসাজশে নদীতীর দখলের প্রতিযোগিতা চলছে। অনেকেই দখলদারিত্ব পাকাপোক্ত করতে ইতোমধ্যে জাল কাগজপত্র তৈরি করে নদীরপাড়সহ সলঙ্গা বাজারের অধিকাংশ সরকারি জায়গা দখল করে ছোট-বড় শত শত স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

আবার নদীর ভেতরেই দখল করে পুকুর খনন করে মাছ চাষসহ ফসল ফলাচ্ছে। গাঢ়দহ নদীটির দুইপাশের বসবাসকারীদের গৃহস্থালীর বর্জ্য এবং সলঙ্গা বাজার ও হোটেলের পচা–বাসি খাবার, মাছ-মুরগির উচ্ছিষ্ট ও পালকসহ নানা ধরনের বর্জ্য নির্বিঘ্নে নদীতে ফেলা হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন নদী সংকুচিত হচ্ছে অপরদিকে নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়ছে। স্থানীয়রা জানান, একসময় গোসল, কাপড় ধোয়া, থালা-বাসন পরিষ্কারসহ দৈনন্দিন সব কাজে নদীর পানি ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে দূষণের কারণে সেই পানি সম্পূর্ণ ব্যবহার অনুপযোগী। সলঙ্গা স্লুইস গেটসংলগ্ন রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন গার্লস স্কুল, বালক ও বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইসলামিয়া উচ্চবিদ্যালয়, শহীদ একাডেমি, মোস্তফা প্রি-ক্যাডেট স্কুল, আদর্শ কেজি স্কুল, সলঙ্গা ফাজিল মাদরাসা, সলঙ্গা ডিগ্রি কলেজ, সলঙ্গা মহিলা কলেজ ও হাফিজিয়া মাদরাসা, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মাছের আড়ত ও পশু হাটের ক্রেতা-বিক্রেতাসহ সাধারণ মানুষ এ রাস্তা দিয়ে চলতে নদীপাড়ে জমে থাকা বর্জ্য ও দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার মাসুদ রানা বলেন, নদী ও সরকারি খাস জমি দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, সরেজমিনে তদন্ত করে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দীর্ঘদিনের এ সংকট নিরসনে গাঢ়ুদহ নদী খনন ও নদীর পশ্চিমপাড় দখলমুক্ত করতে সলঙ্গার সচেতন মহল দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

বৈছাআ রাজশাহীর আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন

উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে প্রতিমন্ত্রী বগুড়ার মীর শাহে আলম

বড়াইগ্রামে সিল মারা ১৮ ব্যালট পেপার উদ্ধার, যা বললেন ইউএনও

বিরোধীদলীয় হুইপ হলেন সিরাজগঞ্জের রফিকুল

উপনির্বাচনে জিয়া পরিবারের প্রতিনিধিত্ব চান বগুড়াবাসী

প্রথমবারের মত দেশীয় প্রযুক্তিতে বাটন মাশরুম চাষের সফলতা

সিরাজগঞ্জে স্কুলছাত্র হত্যা মামলায় তিন আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড

৩৫ বছর পর বগুড়া পেতে যাচ্ছে মন্ত্রিত্বের স্বাদ

খাসির মাংস বলে কুকুরের মাংস বিক্রি, সেই কসাই গ্রেপ্তার

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ডাক পেলেন ব্যারিস্টার পুতুল