রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা ভাতা বৃদ্ধি, বাধ্যতামূলক শিক্ষানবিশকাল (ইন্টার্নশিপ) বাতিল এবং বিসিএসে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধিসহ ছয় দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু। সারা দেশে ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার সকাল থেকে তারা এই কর্মসূচি পালন করছেন।
রোববার বেলা সোয়া ১১টার দিকে রামেক হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে ‘রামেক ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ’-এর ব্যানারে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
আন্দোলনরত চিকিৎসকেরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা ভাতা বৃদ্ধি ও পেশাগত বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করে আসছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ বা আশ্বাস না পাওয়ায় তাঁরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির মতো কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দেন তারা।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে মাসিক ভাতা ৩০ হাজার টাকায় উন্নীত করা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই বছরের বাধ্যতামূলক শিক্ষানবিশকাল বাতিল করা এবং বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বয়সসীমা ৩৪ বছরে উন্নীত করা।
এদিকে কর্মবিরতির কারণে চিকিৎসাসেবায় যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সে জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোগীদের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রাখতে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে বিকল্প ব্যবস্থায় চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তবে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির ফলে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বহির্বিভাগ ও ওয়ার্ড পর্যায়ে রোগীদের সেবা দিতে বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের।
উল্লেখ্য, ভাতা বৃদ্ধিসহ ছয় দফা দাবিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান এবং প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় ‘ইন্টার্ন চিকিৎসক ফোরাম’-এর ডাকে রোববার থেকে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে একযোগে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হয়। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই রামেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কর্মবিরতিতে যোগ দিয়েছেন।