জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদসা ইউনিয়নের ঢুলিপাড়া এলাকায় বন্দনা রানী (২৬) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে এলাকা। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত স্বামী রাজকুমারসহ (৩৫) সকল আসামির দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১১টা থেকে ১১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত জয়পুরহাট সদর উপজেলার দুর্গাদহ বাজারের প্রধান সড়কে ভাদসা ইউনিয়নের সর্বসাধারণের উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রায় ৪০০ থেকে ৪৫০ জন নারী-পুরুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীকে এভাবে পিটিয়ে হত্যা করা অত্যন্ত বর্বরোচিত। আমরা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত স্বামী রাজকুমারসহ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং মদদদাতা সকলকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি—মৃত্যুদণ্ড—নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।"
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুন ভোরে পরকীয়া প্রেম নিয়ে স্বামী রাজকুমার ও স্ত্রী বন্দনা রানীর মধ্যে তীব্র ঝগড়া বাধে। পারিবারিক এই কলহের এক পর্যায়ে রাজকুমার উত্তেজিত হয়ে তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে জখম করেন। মারধরের কারণে ঘটনাস্থলেই বন্দনা রানীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
খবর পেয়ে ওই দিন সকাল ১০টায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫0 শয্যা বিশিষ্ট জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এই হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী রাজকুমারকে গ্রেফতার করেছে বলে জানা গেছে। তবে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর দাবি, এই ঘটনার পেছনে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও খুঁজে বের করতে হবে।
এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে পুরো দুর্গাদহ ও ঢুলিপাড়া এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।