ভ্যাকসিনের অভাব
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের অভাবে কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন না থাকা এবং বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে দেরি হওয়ায় শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণে এ প্রাণহানি ঘটেছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।
গত ২২ এপ্রিল সুন্দরগঞ্জের কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ী ও কঞ্চিবাড়ী গ্রাম এবং ছাপরহাটী ইউনিয়নের মন্ডলেরহাট গ্রামে একটি বেওয়ারিশ পাগলা কুকুরের কামড়ে দুই শিশু ও দুই নারীসহ মোট ১৩ জন গুরুতর আহত হন।
আহতরা জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েও ভ্যাকসিন পাননি। চড়া দামে বাইরের ফার্মেসি থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করতেই পার হয়ে যায় ২৪ ঘণ্টার বেশি সময়।
জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে ৬ মে কঞ্চিবাড়ী গ্রামের খোকা রামের স্ত্রী নন্দ রানী ও নাইব উদ্দিনের ছেলে ফুলু মিয়া মারা যান। সর্বশেষ ৮ মে মারা যান রাজমিস্ত্রি রতনেশ্বর কুমার।
এ ছাড়া আশঙ্কাজনক অবস্থায় মতিয়ার রহমানের স্ত্রী আফরোজা বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আরও ৯ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের নিয়ে চরম উদ্বেগে দিন কাটছে পরিবারগুলোর। রতনেশ্বরের ভাই রবিন্দ্র কুমার অভিযোগ করে বলেন, ‘কামড়ানোর পরপরই ভাইকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ক্ষতস্থান ড্রেসিংয়ের পর জানানো হয় ভ্যাকসিন নেই। জেলা হাসপাতালেও একই উত্তর মেলে। বাধ্য হয়ে ওষুধের দোকান ও বেসরকারি ক্লিনিকে খোঁজাখুঁজি করে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করতে অনেক দেরি হয়ে যায়।’
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক জানান, সরকারি হাসপাতালে ভ্যাকসিন না থাকায় এলাকায় এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য তাজরুল ইসলাম জানান, সময়মতো চিকিৎসা শুরু করতে না পারায় তার এলাকায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন থাকলে এ মৃত্যুগুলো এড়ানো যেত বলে তিনি মনে করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দিবাকর বসাক জানান, এ মাসে ৩০টি জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন কেনার জন্য অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সাধারণত এসব ভ্যাকসিন জেলা হাসপাতালগুলোয় সরবরাহ করা হয়।
তিনি পরামর্শ দেন, কুকুর বা অন্য প্রাণীর কামড়ে আহত হলে দ্রুত ক্ষতস্থান সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে হাসপাতালে আসতে হবে এবং সময়মতো ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে হবে।