ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এ সময় তাদের মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ঢাকা থেকে আগত যাত্রীবাহী বাস ও কাভার্ড ভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন থামিয়ে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেছে।
বুধবার দুপুর ১টার দিকে সেনাবাহিনীর ঠাকুরগাঁও অস্থায়ী ক্যাম্পের সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার কুতুবউদ্দিনের নেতৃত্বে জেলা শহরের বাসস্ট্যান্ড গোল চত্বর থেকে অভিযান শুরু হয়। অভিযানে সেনাবাহিনীর সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরাও ছিল।
সরেজমিন দেখা যায়, দুপুর ১টার দিকে শহরের বাসস্ট্যান্ড গোল চত্বর থেকে শুরু করে সত্যপীর ব্রীজ, পল্লীবিদ্যুৎ সহ বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ি তল্লাশি করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর কয়েকটি টিমে ভাগ হয়ে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, যাত্রীবাহী বাস ও অন্যান্য যানবাহনগুলোকে আলাদা আলাদাভাবে চেক করছে। গাড়ির কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় বেশ কয়েক গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।
রাস্তায় সেনাবাহিনীর অভিযান দেখে খুশি স্থানীয় ও পথচারীরা। অভিযান ঘিরে উৎসুক সাধারণ মানুষ জানান, এ ধরনের অভিযান সব সময় হোক। তাহলে অপরাধ কমে আসবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা যত বাড়বে, মানুষ তত শান্তিতে থাকতে পারবে।
রমজান আলী নামে এক পথচারী বলেন, ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন এলাকায় যেভাবে চুরি-ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটছে, তাতে করে এভাবে সেনাবাহিনী ও পুলিশের অভিযান চলমান থাকলে অপরাধ কমবে।
হেলমেট না থাকার কারণে জরিমানা খাওয়া রিফাত নামে এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, জরুরি কাজে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় গিয়েছিলাম। হেলমেট নিয়ে বের হইনি, তাই মামলা খেতে হয়েছে। এ ধরনের অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, সচরাচর সেনাবাহিনীর অভিযানে পড়তে হয়নি। তবে বিভিন্ন জায়গায় এমন অভিযান অব্যাহত থাকলে অপরাধ অনেকটা কমে আসবে। সেনাবাহিনীর অভিযান সব সময় থাকা উচিত।
ঠাকুরগাঁও ট্রাফিক বিভাগের ট্রাফিক সার্জেন্ট মোস্তাফিজার বলেন, সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানের অংশ হিসাবে আমরা সঙ্গে এসেছি। তারা গাড়ি থামিয়ে অবৈধ কোনও কিছু আছে কিনা এসব বিষয়ে তল্লাশি করছে। পাশাপাশি যেসব যানবাহন কাগজপত্র, চালকের লাইসেন্স কিংবা ট্রাফিক আইনের কোনও ক্রুটি রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অভিযানের বিষয়ে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার কুতুবউদ্দিন বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে আমরা যৌথ অভিযান পরিচালনা করছি। অভিযানে মূলত ট্রাফিক পুলিশকে সহায়তায় পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছি, যাতে মানুষের মধ্যে ভীতি দূর হয়।
এছাড়াও চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ অপরাধ তৎপরতা ঠেকাতেও সেনাবাহিনী কাজ করছে বলে জানান সেনাবাহিনীর এই কর্মকর্তা।