এমপি আখতার হোসেন
রংপুরের পীরগাছায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পীরগাছা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এই পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।
শহিদ পরিবারের আবেগঘন আকুতি সভার এক পর্যায়ে জুলাই বিপ্লবের শহিদ মঞ্জুর স্ত্রী রহিমা বেগম বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “আমার স্বামী দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন। আজ আমি নিঃস্ব। এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়নের পাশাপাশি আমি আমার যোগ্যতা অনুযায়ী একটি চাকরির দাবি জানাচ্ছি, যাতে সন্তানদের নিয়ে সম্মানের সাথে বেঁচে থাকতে পারি।” সংসদ সদস্য তাঁর কথা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে শোনেন এবং যথাযথ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সংসদ সদস্য আখতার হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলার সামগ্রিক উন্নয়নই আমার মূল লক্ষ্য। জনগণের দেওয়া আমানত রক্ষা করতে আমি বদ্ধপরিকর। আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই যেখানে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কোনো স্থান নেই। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সাংবাদিকরা হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করলে পীরগাছাকে একটি মডেল উপজেলায় রূপান্তর করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন জুলাইযোদ্ধা এবং শহিদ পরিবারের ত্যাগ আমাদের আজ এই আসনে বসিয়েছে। তাদের সম্মান ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এছাড়া তরুণদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষার প্রসার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আমার বিশেষ পরিকল্পনা কথা জানান তিনি। তিনি বলেন ভোটের মাঠে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সবগুলো বাস্তবায়ন করতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। আপনারা আমাকে ছেলে হিসেবে, ভাই হিসেবে, ভাতিজা হিসেবে সহযোগিতা করবেন এবং চলার পথে কোথাও ভুল হলে তা সুধরে দিবেন।
সভায় পীরগাছা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সাংবাদিক, হারুন-অর-রশিদ বাবু প্রশাসনের অসহযোগিতার কথা তুলে ধরে বলেন, “অনেক দপ্তর প্রধান তথ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন, যা স্বচ্ছতার পথে অন্তরায়। বিশেষ করে খাদ্য বিভাগে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিম্নমানের সামগ্রী ক্রয়ের যে অনিয়ম চলছে, তা বন্ধ করতে হবে। তিনি বড়দরগাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ সংস্কারসহ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গণমাধ্যমকর্মীদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার স্বাগত বক্তব্যের পর ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রশিদ মুকুল এমপির দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “নির্বাচনী প্রচারণার সময় আমরা জনগণের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। এখন সময় এসেছে সেগুলো বাস্তবায়নের। গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও সেচ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ছাড়া কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের উন্নতি সম্ভব নয়।
সভায় উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দ, জুলাইযোদ্ধা, শহিদ পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর দাবি জানান। সংসদ সদস্য আখতার হোসেন প্রতিটি দাবি ধৈর্য ধরে শোনেন এবং পর্যায়ক্রমে সব সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
সভায়,উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবাশীষ বসাক, কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. একরামুল হক, স্বাস্থ্য ও পরিবারপরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.তানভীর আহমেদ, প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান জেমি, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী সানোয়ার মোর্শেদ, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবুল হোসেন, সমাজসেবা অফিসার এনামুল হক, খাদ্য অফিসার আকলিমা আক্তার, পীরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার একেএম মহিব্বুল ইসলাম প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।