রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় গত ১০ দিনে পৃথক পাঁচটি ঘটনায় ছয়জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। আত্মহত্যা, নদীতে ডুবে মৃত্যু, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, সড়ক দুর্ঘটনা এবং ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের এসব ঘটনায় উপজেলাজুড়ে শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
২১ মে উপজেলার ডাংগীরহাট ইউনিয়নের খলেয়ানন্দগ্রাম এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে জয়া রানী পাল (১৮) নামে এক কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই এলাকার লক্ষ্মণ পাল ও স্বপ্না রানী পালের মেয়ে এবং ডাংগীরহাট কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা সন্ধ্যায় ঘরের ভেতরে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।
২৪ মে উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের কুঠিপাড়া গ্রামের মৃত রুস্তম আলীর ছেলে মোখলেসুর রহমান (৩৫) বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন। অটোরিকশা চার্জে দিয়ে পরে সংযোগ খুলতে গেলে বৈদ্যুতিক তারে স্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
২৯ মে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান উপজেলার ইকরচালী ইউনিয়নের দক্ষিণ হাজীপুর মাঝাপাড়া গ্রামের মৃত কালটা মামুদের ছেলে ইয়াছিন আলী (৬০)। গত ২০ মে রাতে বালাবাড়ি বাজার এলাকায় রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন তিনি। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
একই দিন উপজেলার হাড়িয়ারকুটি ইউনিয়নের কশিয়াবাড়ি এলাকার যমুনেশ্বরী নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে মারা যায় দুই কিশোর। তারা হলো ডাংগীরহাট ইউনিয়নের কিসামত মেনানগর তেলীপাড়া গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে মো. অহিদ ইসলাম (১৩) এবং নুর ইসলামের ছেলে মাসুদ (১৫)। ঈদের ছুটিতে বন্ধুদের সঙ্গে নদীতে গোসল করতে গিয়ে তারা নদীর গভীর পানিতে তলিয়ে মারা যান।
এদিকে, ২৯ মে রাতে উপজেলার হারিয়ারকুঠি ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামের ফেরদৌসী বেগম (৩০) বিষপানে মারা যান। তিনি একই এলাকার মো. হাসানুরের স্ত্রী এবং ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, স্বামীর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তার সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে।