লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম সীমান্তের শূন্যরেখায় লাগানো সেই কাঁটাতারের বেড়ায় এবার বাঁশ বেঁধে শক্ত করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী- বিএসএফ। বিএসএফ ও ভারতীয় লোকজন শূন্যরেখায় লাগানো সেই কাঁটাতারের বেড়ায় বাঁশ বাঁধছে এমন এক মিনিট ৫১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিজিবি এহেন কাজের বিরোধিতা করলেও কাজ বন্ধ করেনি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী ( বিএসএফ)
মঙ্গলবার দুপুরের দহগ্রাম ইউনিয়নের হাঁড়ি পাড়া সীমান্তে বিএসএফের শূন্য লাইনে লাগানো কাঁটাতারের বেড়ায় এবার বাঁশ দিয়ে শক্ত করার চেষ্টা করে। এসময় বিজিবি তাতে বাধা প্রদান করেন।
ভিডিওতে দেখা যায়, সীমান্তে উভয় দেশ আপাতত কোনো ধরণের নির্মাণ কাজ করবে না। বিজিবির একজন জওয়ান বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও তা উপেক্ষা করে তর্ক জুড়ে কাজ চালিয়ে যায় বিএসএফ। এ সময় একজন বিএসএফ সদস্যকে হিন্দিতে বলতে শোনা যায়, 'আমরা কাজ করবো তোমার যা করার তুমি করো'।
এর আগে গত ১০ জানুয়ারি দহগ্রাম সীমান্তের শূন্যরেখা বরাবর প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশজুড়ে বেড়া নির্মাণ করেছিল ভারত। এতে বিজিবি বাধা দিলে উভয় বাহিনীর মাঝে চরম উত্তেজনা দেখা হয়। বিষয়টি নিয়ে বিজিবি এবং বিএসএফেরে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে আপাতত কাজ না করার সিদ্ধান্তের পর সীমান্ত থেকে উভয় বাহিনী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যায়। এ ঘটনার এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই আবারো সেই কাঁটাতারের বেড়ায় ভারতীয় অসংখ্য মদের খালি কাঁচের বোতল ঝুলিয়ে দেয় বিএসএফ সদস্যরা। গত মঙ্গলবার সর্বশেষ সেই বেড়ায় জোর করে বাঁশ লাগিয়ে দিলো বিএসএফ। সীমান্তের স্থানীয় লোকজনের দাবি বিএসএফ দহগ্রামে সব সময় জোর খাটিয়ে কাজ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৫১ বিজিবি পাটগ্রামের পানবাড়ি বিজিবি ক্যাম্পের এক বিজিবি সদস্য বলেন, ঘটনাটি ৩/৪ দিন আগের। তিনি আরো বলেন, বিজিবির পক্ষ থেকে কঠোরভাবে বাঁধা প্রদানের পর কাজ বন্ধ রেখেছে বিএসএফ।
এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা সংগ্রাম কমিটি'র সম্পাদক রেজানুর রহমান রেজা বলেন, একের পর এক দহগ্রামবাসীকে নানাভাবে হেনস্থা করার পায়তারা করছেন বিএসএফ। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের আগ্রাসী তৎপরতার বন্ধের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে ৫১ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সেলিম আল দিন এবং রংপুর ৫১ বিজিবির সহকারী পরিচালক (এডি) ওমর খসরু এর মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।