গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে উপেক্ষিত হয়ে ক্ষুব্ধ হন দিনাজপুরের ‘জুলাই যোদ্ধারা’। শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিক্ষোভে দাঁড়িয়ে এক ঘণ্টা অবস্থান করেন তারা। পরে জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম তাদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। এরপরই তারা মূল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
মঙ্গলবার গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নেন চব্বিশের জুলাই মাসে দিনাজপুরে গণআন্দোলনে অংশ নেওয়া আহত ও শহীদদের পরিবারবর্গ।
অভিযোগ উঠেছে, এদিন সকাল থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা ও র্যালির মূল আয়োজন থেকে জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের উপেক্ষা করা হয়।
জুলাই যোদ্ধাদের দাবি, পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী দিনাজপুর জিমনেসিয়াম মাঠে স্থাপিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের কথা থাকলেও জেলা প্রশাসক তা উপেক্ষা করে জজ কোর্ট চত্বরে থাকা অপর একটি স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। সেখানে তিনি শুধুমাত্র প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা জানান, আহত-নিহত পরিবারের কেউ ছিলেন না।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ২৫৩ জন আহত জুলাই যোদ্ধা ও ৮টি শহীদ পরিবারের সদস্য বিক্ষোভ অবস্থান নেন শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।
জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অবজ্ঞার অভিযোগ তুলে তারা ঘোষণা দেন, “আমাদের বাদ দিয়ে প্রোগ্রাম করলে, আমরা সেই প্রোগ্রামে অংশ নেব না।”
প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান নেওয়ার জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার মারুফাত হোসেন মারুফ শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়ে জুলাই যোদ্ধাদের সামনে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান। তিনি হাতজোড় করে অনুতপ্ত মনোভাব প্রকাশ করেন এবং তৎক্ষণাৎ তাদের শিশু একাডেমির মূল প্রোগ্রামে নিয়ে যান।
এ সময় জুলাই যোদ্ধারা বলেন, “জেলা প্রশাসক আমাদের বাদ দিয়ে নিজের মতো করে কর্মসূচি করেছেন। আমাদের প্রতি এটি অবমাননাকর আচরণ। আজ আমরা তাকে ক্ষমা করলেও ভবিষ্যতে এমন ঘটনা হলে আমরা আর ছাড় দেব না।”
পরে শিশুপার্কে আয়োজিত মূল কর্মসূচিতে অংশ নেন জুলাই যোদ্ধারা। তবে তারা জেলা প্রশাসনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “জুলাই যোদ্ধাদের উপেক্ষা করা মানেই ইতিহাসকে অস্বীকার করা। আগামীতে আর কোনো অবহেলা মেনে নেওয়া হবে না।”