হোম > সারা দেশ > রংপুর

ধর্ম–দল নয়, প্রকৃত অসহায়দের সহায়তা দিতে হবে: এটিএম আজহার

রংপুর অফিস

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ (তারাগঞ্জ–বদরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, আর্থিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে ধর্ম বা রাজনৈতিক পরিচয় নয়, প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

শনিবার রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের ঝাড়ুয়ারহাটে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়েই পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। তাই নতুন করে কোনো ধরনের বৈষম্য করা উচিত নয়। তিনি বলেন, “কে কোন ধর্মের বা কোন দলের সমর্থক—সেটি বিবেচনা না করে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে।”

তিনি জানান, নির্বাচনের আগে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে সংসদ সদস্য হিসেবে সরকারি বরাদ্দ বা অন্য যেকোনো উৎস থেকে পাওয়া অর্থের একটি টাকাও অসৎভাবে ব্যবহার করবেন না। তিনি বলেন, “আমি ওয়াদা করেছিলাম, হারামের একটি পাইও আমার পেটে যাবে না। আল্লাহর রহমতে এখন পর্যন্ত সেই অঙ্গীকার রক্ষা করার চেষ্টা করেছি।”

এমপি আজহারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ কয়েক দশকের উন্নয়ন ঘাটতি অল্প সময়ের মধ্যে পূরণ করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “বিগত ৫৪ বছর, বিশেষ করে গত ১৬ বছরে যে কাজগুলো হয়নি, তা চার দিন বা চার মাসে করা সম্ভব নয়। আমাকে একটু সময় দিন, আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”

ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তিনি বলেন, শুধু দোয়া-দরুদ পড়লেই সমাজ পরিবর্তন হয় না। কাজের পাশাপাশি আইন পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর ভাষায়, “ইসলাম কায়েম করতে হলে আইন পরিবর্তন করতে হবে। আর আইন পরিবর্তন হয় সংসদে। সংসদে আমাদের শক্তি বাড়লে আমরা আইন পরিবর্তন করতে পারব।”

সমাবেশে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশেও বক্তব্য দেন তিনি। তিনি বলেন, প্রত্যেক ধর্ম মানুষকে নৈতিকতা ও সৎকাজের শিক্ষা দেয়। নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “কোনো ধর্মই খারাপ শিক্ষা দেয় না; সব ধর্মই মানুষকে ভালো কাজ করতে বলে।”

নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, অতীতে তিনবার নির্বাচন করেও তিনি বিজয়ী হতে পারেননি। তবে নির্বাচিত না হয়েও এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কাজ করেছেন। তিনি দাবি করেন, অনেক মানুষের চাকরির ব্যবস্থা করেছেন, মসজিদ, এতিমখানা ও ওজুখানা নির্মাণে সহযোগিতা করেছেন।

তিনি আরও বলেন, পরে তিনি মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি হন এবং একপর্যায়ে মৃত্যুদণ্ডের রায়ও পান। সে সময় তিনি আল্লাহর ওপর ভরসা রেখেছিলেন বলে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, “আপনাদের দোয়া এবং আল্লাহর ফয়সালায় চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর আমি মুক্তি পেয়েছি। এরপর আপনাদের ভালোবাসায় এবার সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছি। এর সমস্ত কৃতিত্ব আপনাদের।”

দামোদরপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান লাবলুর সভাপতিত্বে সুধী সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বদরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কামরুজ্জামান কবির, নায়েবে আমির শাহ মুহাম্মদ রুস্তম আলী, সেক্রেটারি মাওলানা মিনহাজুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন বদরগঞ্জ উপজেলা শাখার সেক্রেটারি এম এ মতিন সরকারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

রংপুরে আরসিসি সড়ক নির্মাণকাজের উদ্বোধন

রংপুরে টাকা ফেরতের দাবিতে আমানতকারীদের বিক্ষোভ

সাঁওতাল কমিউনিটি পরিদর্শনে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী নিহত

বিদ্যুৎ চালু রেখে কাজ করার সময় ২ শ্রমিকের মৃত্যু

ব্রহ্মপুত্রের ডান তীর রক্ষা বাঁধে ধস, স্থানীয়রা আতঙ্কে

তিস্তার ভাঙনে ঝুঁকিতে স্কুল মসজিদ, ঘরবাড়ি

‘জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাও’ আন্দোলন সফল হয়েছে

আল্লাহর আইন চাই, সৎ লোকের শাসন চাই: এটিএম আজহার

প্রত্যেক বাড়ি বাড়ি ফ্যামিলি কার্ড যাবে, উপকারভোগী নির্বাচন হবে কম্পিউটারে