হোম > সারা দেশ > রংপুর

হারাগাছে আখতার হোসেনের সফর ঘিরে বিএনপির হরতালের ডাক

উপজেলা প্রতিনিধি, পীরগাছা (রংপুর)

রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হারাগাছ পৌরসভায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য আখতার হোসেন দাবি করেছেন, তার নির্ধারিত সফর ঘিরে হারাগাছ পৌর বিএনপি হরতাল ও বিক্ষোভের ঘোষণা করে। যদিও পরে হরতাল প্রত্যাহার করে বিক্ষোভ করার ঘোষণা দিয়েছে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে রংপুর-৪ আসনে ১১দলীয় জোটের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন হারাগাছে এনসিপির একাধিক নেতার ক্ষতবিক্ষত ভাঙাচুরা ঘরবাড়ির ছবি দিয়ে এক ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন।

আখতার হোসেন লিখেছেন, নির্বাচনের দিন (১২ ফেব্রুয়ারি) তিনি সারা দিন হারাগাছ পৌরসভার বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তার দাবি, কয়েকটি কেন্দ্রে তার সমর্থকদের বাধা দেওয়া হয়, ভোটার স্লিপ বিতরণের টেবিল ভাঙচুর করা হয় এবং কর্মীদের শাসানো ও মারধরের ঘটনা ঘটে। চর চাতুরী আদর্শ স্কুল কেন্দ্র, হারাগাছ মডেল কলেজ কেন্দ্র ও মোল্লাটারী কেন্দ্রসহ একাধিক কেন্দ্রে অনিয়ম ও ভয়ভীতির অভিযোগ তোলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বিকেলে বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে কাস্টিং ভোটের সংখ্যা সংগ্রহ করতে গেলে কিছু প্রিসাইডিং কর্মকর্তার অসহযোগিতার মুখে পড়েন। হারাগাছ মডেল কলেজ কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় প্রতিপক্ষ এমদাদুল হক ভরসার শতাধিক লোক কেন্দ্রের গেট আটকে তাকে হুমকি দেয় এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে, বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসাসহ একসঙ্গে দরদী স্কুল কেন্দ্রের ভিতরে যান। সেখানে কাস্টিং ভোটের হিসাব নিয়ে বের হওয়ার সময় বাইরে ভরসার গাড়ির কাচ নিজেরা ভেঙে আমাদের ঘারে দায় চাপানোর চেষ্টা করেন।

সাংসদ সদস্য লিখেছেন, হারাগাছে ৫৫ হাজার ভোটের মধ্যে ২৭ হাজার পেয়েছেন ভরসা, তার থেকে ২২ হাজার ভোট কমে ৫ হাজার ভোট পেয়েছি আমি। কিন্তু হারাগাছে প্রত্যেক ভোট আমার কাছে হাজার ভোটের সমান। আমি আমার হারাগাছের ভোটার এবং সবার মর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে আছি। তবে সামগ্রিক আসনে ফলাফল ভিন্ন হওয়ায় নির্বাচিত সংসদ সদস্য দাবি করেন, অতিরিক্ত ভোট দেখানোর একটি পরিকল্পনা ছিল, যা প্রতিহত করা হয়েছে।

নির্বাচনের পর থেকে হারাগাছে এনসিপির নেতাকর্মীরা সহিংসতার শিকার হয়েছেন, তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট ও হামলার অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচিত এমপি আখতার হোসেন দাবি করেন, তার দলীয় নেতাকর্মীদের অনেকেই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন এবং কয়েকটি পরিবার এখনো বাড়িতে ফিরতে পারেনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে হারাগাছ পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে একাধিক ফোন করার পরেও তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আখতার হোসেন জানিয়েছেন, তিনি রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নিতে এবং হারাগাছ পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য হারাগাছ সফর করবেন। তার দাবি, গত দেড় বছরে হারাগাছ পৌরসভার উন্নয়নে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ আনা হয়েছে, যার আওতায় কিছু কাজ শিগগিরই শুরু হবে। সম্ভাব্য খাত হিসেবে অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিক স্যানিটেশন-ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তার সফরকে কেন্দ্র করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে তার দায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বকে নিতে হবে বলেও সতর্কবার্তা দেন তিনি।

এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কন্ট্রোলরুম থেকে সাব্বির আহমেদ জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্যের হারাগাছে আগমন উপলক্ষে বিএনপির বিক্ষোভের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

পঞ্চগড়ে বোরো আবাদের ধুম

মানবিক আচরণেই বাড়বে প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস: এটিএম আজহার

রংপুরের ভাষা সৈনিকদের একুশে পদক দেয়ার দাবি

জুলাই সনদকে অবজ্ঞার ফয়সালা হবে সংসদে: এটিএম আজহার

বিএনপির তিন নেতার জন্য দুঃসংবাদ

সরকারি দল ক্ষমতায় এসেই জুলাই সনদকে অবজ্ঞা করেছেন

চালকহীন অ্যাম্বুলেন্স, অচল ডিজিটাল এক্স-রে, ভোগান্তিতে রোগীরা

ঈদের আগেই চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, পাইলট প্রকল্প ৮ উপজেলায়

শাজাহানপুরে বাসের ধাক্কায় গৃহবধূ নিহতের জের

র‌্যাবের অভিযানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার