বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির রংপুর-২(বদরগঞ্জ তারাগঞ্জ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, এখন মন্ত্রীরাও সংসদে মিথ্যা কথা বলে। মিথ্যা তথ্য ছড়ায়। আবার সেই মিথ্যার উপর অটুট থাকার জন্য নানান ধরনের যুক্তি তর্ক দাঁড় করায়। অনেকে তো সংসদে সংবিধান ছাড়া কোন কথাই বলেন না। সাধারণ মানুষ ভোট দিয়ে আমাদেরকে দেশের উন্নয়ন এবং মানুষের উপকারের জন্য সত্য কথা বলতে সংসদে পাঠিয়েছেন। সেখানে যদি আমরা সব জেনেশুনে মিথ্যা কথা বলি মিথ্যা তথ্য ছড়াই তাহলে আগামীতে মানুষ আমাদের ওপর আস্থা হারাবে।এমপিদের ওপর থেকে মানুষের বিশ্বাস উঠে যাবে। তাই সকলকে মহান এই জাতীয় সংসদে এবং বাহিরে জনগণের সামনে সত্য কথা বলতে হব। সত্য ঘটনা এবং বাস্তবতা তুলে ধরে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।
তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের মত যদি জনগণকে এখন আমরা বিভ্রান্তিতে রাখি তাহলে আগামীতে কারো ফল ভালো হবে না।
শুক্রবার রাতে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানি পাড়া ইউনিয়ন জামায়াত আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইসলামী ব্যাংকের ঘটনার সম্পর্কে তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক হচ্ছে ব্যাংকিং খাতের একটি পূর্ণাঙ্গ মাইল ফলক। ব্যবসায়ীদের আস্থার প্রতীক। সারা বিশ্বে ইসলামী ব্যাংকের পরিচিত রয়েছে। ইসলামী ব্যাংকে সকল ধর্মের মানুষের অ্যাকাউন্ট এবং লেনদেন রয়েছে। দল মত নির্বিশেষে সবাই ব্যাংকটিতে তাদের আমানত রেখেছেন। ইতিপূর্বে ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকার ব্যাংকটি দখল করে ইসলামী ব্যাংক থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা এস আলমসহ আওয়ামী পন্থী বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দিয়ে ব্যাংকটিকে দেউলিয়া করার চেষ্টা করেছিল। একই দিনে হাজার হাজার ছাত্রলীগ নেতা কর্মীদের চাকরি দিয়ে টাকা পয়সা আত্মসাৎ করেছে।
এটিএম আজহার বলেন, আবারো একই কায়দায় ইসলামী ব্যাংকটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল বর্তমান সরকারের একটি অংশ। কিন্তু সাধারণ গ্রাহকরা কঠোর প্রতিবাদ করায় শেষ পর্যন্ত তারা সেটা করতে পারেননি। সেই ব্যাংকের ঋণ সম্পর্কে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় সংসদেও মিথ্যা কথা উপস্থাপন করে জনগণের মাঝে ভুল তথ্য ছড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি একজন সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী হয়ে এমন মিথ্যা তথ্য ছড়াতে পারেন না।
জুলাই আন্দোলন সম্পর্কে তিনি বলেন, ভোট নেওয়ার সময় বর্তমান সরকার শেষে গিয়ে জুলাই এবং জুলাই যোদ্ধাদের সকল দাবি দাওয়া মেনে নেবে বলে জনগণের কাছে ওয়াদা করে ক্ষমতায় বসেছে। কিন্তু সংসদে গিয়ে তারা এখন বেমালুম জুলাই আন্দোলন এবং শহীদ ও আহতদের কথা ভুলে গিয়ে নিজেদের মতো করে সংবিধানের দোহাই দিয়ে ইচ্ছেমতো দেশ পরিচালনা করার ব্যবস্থা করেছে। তারা যদি জুলাই এর শর্তগুলো দ্রুত পূরণ না করে তাহলে এর ফয়সালা রাজপথে হবে। আমরা ১১ দলীয় জোট রাজপথেই জুলাইয়ের সকল দাবি আদায় করে ছাড়বো।
নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, মানুষ নির্বাচনে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে আমাদেরকে ভোট দিয়েছে। আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়েই সরকার গঠন করার পথেই ছিলাম। আমাদেরকে মানুষ ভোট দিয়েছে যতটি আসন পাওয়ার দরকার আমরা ঠিকই পেয়েছিলাম। কিন্তু নির্বাচন কমিশন কোন একটি মহলের ইন্ধনে আমাদেরকে কৌশলে হারিয়ে দিয়েছেন। বিএনপির পক্ষ অবলম্বন করে সরকার গঠন করতে দেননি। এই হিসাব গুলো সাধারণ ভোটাররা খুব ভালো করেই জানেন। সবাই দেখেছে মিডিয়ার স্কিনে কিভাবে ঘাপলা করা হয়েছে। তাই মানুষ এগুলো ভালো করে জেনেছে তাই মিথ্যা কথা বলে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে মানুষকে আর বিভ্রান্ত করা সম্ভব হবে না।
মাদকের বিষয়ে এটিএম আজহার বলেন, সরকার সব জায়গায় বড় বড় কথা বললেও এখনো মাদকের লাগাম টেনে ধরতে পারেননি। প্রশাসনের লোকজন সীমান্তে কঠোর পাহারা দিলেও তাদের দলীয় নেতৃবৃন্দ মাদক কারবারিদের সাথে নেতৃত্ব দেওয়ায় মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের লোকজনকে সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে যদি সরকারের সদিচ্ছা থাকে সেক্ষেত্রে তাদের দলীয় মাদক সিন্ডিকেটকে আগে আটকাতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিলে তবেই মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের ছেলে মেয়েদের প্রতি আপনারা খেয়াল রাখবেন। তারা কখন কোথায় যাচ্ছে।কি করছে, কার সাথে মিশছে। সে বিষয়গুলো নজর রাখলে ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যতে ভালো হবে। আপনারা মহান আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতা করতে পারবেন।
বর্তমান সরকারের দলীয় নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজির সমালোচনা করে এটিএম আজহার বলেন, সরকার যে বাজেট দিয়েছে। এই বাজেট বাস্তবায়নে বড় একটি বাধা হচ্ছে নিয়মিত তাদের দলের নেতা কর্মীদের চাঁদাবাজি। তাদের দলের নেতাকর্মীরা হাট বাজার পরিবহন থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যাপক হারে চাঁদাবাজি করে চলছে। চাঁদাবাজির কারণে নিত্য পণ্যের দাম বাড়ছে। পরিবহনে চাঁদাবাজির কারণে শ্রমিক চালক এবং মালিকপক্ষ সড়ক অবরোধ করে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছে তারপরেও তাদের চাঁদাবাজি কমছে না। তাদের চাঁদাবাজির কারণে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ছে। সেই পণ্যগুলো সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষকে বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মূলত সাধারণ মানুষ। লাভবান হচ্ছে চাঁদাবাজরা। এই বাজেট সঠিকভাবে জনগণের কল্যাণ এবং দেশের জন্য বাস্তবায়ন করতে হলে অবশ্যই সবার আগে চাঁদাবাজে রুখতে হবে। চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে এদেশের উন্নয়ন কখনো সম্ভব হবে না।
এমই