গরুটির দাম হাঁকা হয়েছে ১০ লাখ টাকা
পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসায় বাজারে উঠছে বিভিন্ন আকৃতি ও জাতের অসংখ্য গরু। ছোট পশুগুলো পরিবহন করতে সহজ হওয়ায় দূরদূরান্তে নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এর ব্যতিক্রমও রয়েছে দেশের কোথাও কোথাও। অনেক খামারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে লালন-পালন করা হয়েছে বিদেশি জাত এবং অধিক মাংসের গরু। এগুলো বিশাল দেহের কারণে অন্যত্র সরানো বেশ কঠিন কাজ। তাই পশুগুলো সাধারণত খামারেই বিক্রি করার চেষ্টা করছেন মালিকরা। এর মধ্যে অন্যতম দিনাজপুরের ‘প্রিন্স’।
জেলা শহরের উপকণ্ঠে মাতাসাগর (নিশ্চিতপুর বড়দিঘি) এলাকায় অবস্থিত কেএস এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি ফার্ম। সেখানে বড় হয়েছে বিশেষ নামের এই ষাঁড়। দৈত্যাকার আকৃতি ও উচ্চতার জন্য নাম রাখা হয়েছে ‘প্রিন্স’। পুরো জেলার প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে হলিস্ট্রিন ফ্রিজিয়ান জাতের গরুটি। এটি বড় হয়েছে ঘাস, খড় ও উন্নত খাবার খেয়ে। এখন এর উচ্চতা সাড়ে ৯ ফুট আর দৈর্ঘ্য ৮ ফুট। ওজন ছাড়িয়েছে ৩০ মণ। গায়ের রঙ কালো-সাদা।
খামারটি এলাকায় সবার কাছে ‘খুশির গরুর খামার’ নামে পরিচিত। বিশাল গরুটি দেখতে সেখানে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ ও গ্রাহকরা। ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানি করার জন্য যারা বড় গরু খুঁজছেন, ইতোমধ্যে তারা ঢুঁ মারতে শুরু করেছেন, কেউ কেউ দরদামও করছেন। এরই মধ্যে গরুটির জন্য প্রাথমিকভাবে ১০ লাখ টাকা দাম হাঁকানো হয়েছে। তবে এ দামে কেনার গ্রাহক এখনো মেলেনি।
ফার্মের মালিক খুশি রহমান বলেন, ‘তিন বছর ধরে ষাঁড়টিকে সন্তানের মতো লালন-পালন করছি। ওকে শুধু ব্যবসার জন্য নয়, বরং ভালোবেসে বড় করেছি। প্রিন্সের দেখাশোনায় রয়েছে নিয়মিত পরিচর্যা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিশেষ নজর। খাবারের তালিকায় রাখা হয়েছে সবুজ ঘাস, ভেজানো ছোলা, গমের ভুসি, খৈল, মিষ্টিকুমড়া, লাউসহ নানা পুষ্টিকর খাদ্য। প্রতিদিন ২-৩ বার গোসল করানো হয়। ব্যবহার করা হয় সাবান ও শ্যাম্পু। মশা যাতে কামড় না দেয়, সেজন্য স্প্রে করা হয় ওষুধ। আশা করছি একজন ভালো ক্রেতার কাছে প্রিন্সকে বুঝিয়ে দিতে পারব।’
স্থানীয়রা জানান, এবারের ঈদে দিনাজপুরে যতগুলো কোরবানির পশু বড় হয়েছে, তার মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় বলেই সবাই জানি। এরচেয়ে বড় গরুর খোঁজ এখানো পাওয়া যায়নি। উচ্চতার দিক দিয়েও এটি সবচেয়ে বড়। পুরো উত্তরাঞ্চলে এত বড় ষাঁড় আছে বলে কেউ জানাতে পারেননি।
জেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. এমএ জলিল বলেন, গরুটির উপযুক্ত দাম পেলে প্রিন্সের মালিক যেমন উপকৃত হবেন, তেমনই অন্য খামারিও এমন গরু পালনে উৎসাহ পাবেন।