হোম > সারা দেশ > রংপুর

পানি পাচ্ছে না গঙ্গাচড়ার কৃষক

শত কোটি টাকা ব্যয়ে সেচ প্রকল্প

রিয়াদুন্নবী রিয়াদ, গঙ্গাচড়া (রংপুর)

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় তিস্তা সেচ প্রকল্পের আওতায় শত কোটি টাকা ব্যয়ে খাল নির্মাণ ও সংস্কার করা হলেও পানির অভাবে তা এখন প্রায় নামসর্বস্ব প্রকল্পে পরিণত হয়েছে। তিস্তা নদীতে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় অবকাঠামো থাকলেও সেচ ক্যানেলে পানি পৌঁছাচ্ছে না। ফলে উপজেলার হাজার হাজার কৃষক এখন বিকল্প সেচ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর হয়ে বাড়তি খরচে চাষাবাদ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

সরেজমিন গঙ্গাচড়ার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, তিস্তা নদীর বুকজুড়ে এখন বালুর স্তূপ। বর্ষা মৌসুমে যেখানে পানিপ্রবাহ কয়েক লাখ কিউসেক ছাড়িয়ে যায়, সেখানে শুষ্ক মৌসুমে তা নেমে আসে কয়েক হাজার কিউসেকে। অনেক সময় প্রবাহ আরো কমে যাওয়ায় সেচ ক্যানেলে পানি সরবরাহ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

তিস্তা ব্যারেজ থেকে পরিচালিত সেচ প্রকল্পের প্রধান ও শাখা খালগুলো রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলায় বিস্তৃত। এর একটি বড় অংশ গঙ্গাচড়া উপজেলাজুড়ে রয়েছে। বর্তমানে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে খাল সম্প্রসারণ ও সংস্কারের কাজ চললেও মূল উৎস নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় কৃষকরা এর সুফল পাচ্ছেন না।

গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল এলাকার কৃষক নূরুল হুদা বলেন, তিস্তার পানি পেলে বিঘাপ্রতি সেচ খরচ হতো ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। এখন শ্যালো মেশিন দিয়ে ডিজেলে দুই হাজার থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

আলমবিদিতর ইউনিয়নের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ক্যানেল তৈরি হয়েছে, গেট হয়েছে, সবকিছুই আছে কিন্তু পানি নেই। প্রতিবছর ক্যানেল কাটে, সংস্কার করে কিন্তু আমরা কোনো দিন ঠিকমতো পানি পাই না।’

আরেক কৃষক এসোব আলী বলেন, তিস্তা ক্যানেলে পানি পেয়ে চাষাবাদ করার স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু এখন বিকল্প সেচে দ্বিগুণ খরচ হচ্ছে। এতে লাভের বদলে ক্ষতির মুখে পড়ছি। তিস্তা নদী রক্ষা কমিটির (বাপা) সভাপতি ফরিদুল ইসলাম ফরিদ বলেন, উজানে ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের কারণে শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদীতে পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়। ফলে তিস্তা সেচ প্রকল্পের ক্যানেলগুলোতে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে কৃষকরা বলছেন, তিস্তার পানি না এলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব ক্যানেল তাদের কোনো কাজে আসছে না। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে উত্তরের কৃষিব্যবস্থা আরো বড় সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেন বলেন, বর্তমানে বোরো মৌসুম চলছে। বোরো ধান চাষের জন্য নিয়মিত সেচের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সেচ ক্যানেলে পানি না থাকায় আমরা চাষাবাদ পরিকল্পনা অনুযায়ী সেচ দিতে পারছি না। এতে খরচ বাড়ছে এবং ফলন অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, তিস্তা নদীতে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ না থাকায় সেচ ক্যানেলে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। উজানে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে।

নবাবগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন

ফ্যামিলি কার্ড কেবল আর্থিক সহায়তা নয়, নারীদের ক্ষমতায়ন

জালিয়াতি করে ৪৩ কোটি টাকা নিয়ে পালালেন ব্যাংক কর্মকর্তা

বাজারে সড়কবাতি লাগাতে গিয়ে দুজনের মৃত্যু

পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে কোনো সংঘাতে জড়াবেন না

অবৈধ শিশু খাদ্য সরবরাহের অভিযোগে দুই প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ পুরস্কার পেলেন দিনাজপুরের নূর বানু কবীর

হাড়িভাঙ্গা আমে স্বপ্ন বুনছেন আম চাষিরা

সম্মিলিত শ্রমে দারিদ্র্যবিমোচনের স্বপ্ন দেখছেন চরের নারীরা

বিলুপ্তির পথে গরু দিয়ে হালচাষ