দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বিস্ফোরক দ্রব্য ফুরিয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে মধ্যপাড়া খনির পাথর উত্তোলন। মঙ্গলবার সকাল থেকে পাথর তোলা বন্ধ হয়ে যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খনির মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও সেবা) সৈয়দ রফিজুল ইসলাম।
এদিকে খনির পাথর উত্তোলন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম-জিটিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকলেও খনির রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চালু থাকবে।
জানা গেছে, খনি কর্তৃপক্ষ সময়মতো বিস্ফোরক দ্রব্য সরবরাহ করতে ব্যর্থ হওয়ায় এর আগেও বেশ কয়েকবার মধ্যপাড়া খনির পাথর উত্তোলন বন্ধ ছিল। ২০২৫ ও ২০২২ সালে উৎপাদন ও উন্নয়নকাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক (অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট) সংকটে মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ ছিল। বিস্ফোরকের অভাবে প্রথম ২০১৪ সালে ২২ দিন, ২০১৫ সালে ২ মাস এবং ২০১৮ সালের জুন মাসে ৭ দিন খনির পাথর উত্তোলন বন্ধ ছিল।
দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ পাথরখনি দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল) ২০০৭ সালের ২৫ মে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ৩ শিফটে প্রায় সাড়ে ৭০০ শ্রমিক ভূগর্ভে কাজ করছে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসির সঙ্গে ছয় বছরের পুনঃচুক্তি করে মধ্যপাড়া গ্রানাইড মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (মধ্যপাড়া পাথর খনি) কর্তৃপক্ষ।
চুক্তি অনুযায়ী, খনি থেকে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টন পাথর তুলছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।
খনির মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও সেবা) সৈয়দ রফিজুল ইসলাম বলেন, আমদানি করা বিস্ফোরক দ্রব্যের (অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট) মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় পাথর উৎপাদন সাময়িক বন্ধ রয়েছে। আশা করা যায়, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিস্ফোরক দ্রব্য খনিতে পৌঁছাবে। তবে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও খনির রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলমান থাকবে।
জেডএম